তাদের জায়গায় টঙ্গী সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালকে কেন্দ্র সচিব ও একজন সহকারী অধ্যাপককে সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বেলা ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়া পরীক্ষার্থীরা জানান, সোমবার ছিল বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা। এ দিন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভুলবশত বাংলা দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন বিতরণ করেন। এ প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শকদের বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক সব পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাংলা দ্বিতীয়পত্রের ওই প্রশ্নপত্রগুলো ফেরত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এসময় প্রশ্নপত্র দিতে দেরি হওয়ায় পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা হট্টগোল শুরু করে। পরবর্তীতে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত (অতিরিক্ত এক ঘণ্টা বেশি) পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া হয়।
এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক মোসাম্মত পলি আক্তার জানান, রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা বেলা ১টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীরা কেউ বাইরে বের না হওয়ায় কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত অভিভাবকদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে মুখ না খোলায় অভিভাবকদের মধ্যে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পাশের অন্যান্য কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে বেলা ১টায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে এলেও টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা হলের বাইরে বের হচ্ছিল না।
কর্তৃপক্ষ তাদের গেট তালাবদ্ধ করে রাখে। পরীক্ষার হলের ভেতরে কী হচ্ছে তা জানতে অভিভাবকরা কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন। পরে বেলা ২টার দিকে পরীক্ষার্থীরা হল থেকে দেরি হওয়ার কারণ জানতে পারেন অভিভাবকেরা।
এ ব্যাপারে জানতে কেন্দ্রের সচিব অধ্যক্ষ আলা উদ্দিনকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী জানান, ‘ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন থানায় নেওয়ার আগে সর্টিং করার সময় বাংলা দ্বিতীয়পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নের প্যাকেটের গায়ে ভুল
করে প্রথমপত্র লেখা হয়েছিল। পরীক্ষার দিন ওই প্যাকেট খুলে বিতরণ করতে গিয়ে তা ধরা পড়ে। পরে তা থানায় রাখা প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক থেকে আবার পরিবর্তন করে আনা হয়। এতে ওই পরীক্ষা শুরু করতে ৫৫ মিনিট দেরি হয়েছে। পরে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।’
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কাবর জানান, ‘বিষয়টি তদন্ত করতে গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বোর্ড অফিসকেও জানানো হয়েছে।’