ভোটার ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউন্সিলর প্রার্থীরা সাধারণত তৃণমূলের মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। এ কারণে ব্যাক্তি ইমেজটি ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগবে।
সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সালনা এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একজন কাউন্সিলর সবসময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকেন। তিনি কোনও দল সমর্থন বা কোনও পদবী ধারণ করলেও তাকে আমরা সাধারণত আমাদের সবসময়ের সঙ্গী মনে করি। সে দৃষ্টিকোণ থেকে দলীয় মনোনয়নের চেয়ে ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতাটাও ভোটারদের কাছে মুখ্য।’
একই এলাকার হারুন অর রশীদ বলেন, কাউন্সিলররা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করেন। ফলে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব আমাদের কাছে গুরুত্ব পাবে।’
কোনাবাড়ী এলাকার অধিবাসী ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ান সোলায়মান বলেন, ‘কাউন্সিলর পদটি সার্বক্ষণিক জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্য যিনি যত বেশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে পারবেন সুখে-দুঃখে সরাসরি সময় দিতে পারবেন, তিনি জনসাধারণের ভোট বেশি পাবেন। এ ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন ততটা গুরুত্ব পাবে না।’
মহানগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সালনা এলাকার কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম। এবারও এ পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা বলে, কাউন্সিলর পদে ব্যক্তি ইমেজের কোনও বিকল্প নেই। ব্যক্তির আদর্শ, জনসাধারণের সঙ্গে তার আচার-ব্যবহার, ওঠা-বসা ইত্যাদির ওপর তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে। এ পদের জন্য দলীয় মনোনয়নের বিষয়টিকে প্রার্থীরা অগ্রাধিকার দেবেন— এমন নাও হতে পারে।’
তবে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বড় দল দুইটি বলছে, তাদের মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতে আসবে।
উল্লেখ্য, ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে গত ৩১ মার্চ। তফসিল অনুযায়ী, গতকাল বৃহষ্পতিবার মনোনয়নপত্র (১২ এপ্রিল) ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১৫ মে।
আরও পড়ুন-
খালেকের চেয়ে স্ত্রীর টাকা বেশি ২১ গুণ, মঞ্জুরের স্ত্রীর ১৯ গুণ
মনোনয়নপত্র জমার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে