আশুলিয়ায় পুলিশ দিয়ে প্রবাসীর বাড়ি দখলের অভিযোগ

ঢাকাআশুলিয়ায় পুলিশ দিয়ে এক প্রবাসীর বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে আশুলিয়ার বেরন এলাকার তেতুলতলা মহল্লায় ইতালি প্রবাসী মোক্তার হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আশুলিয়া থানার এসআই আনিসুর রহমান বাড়ি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করলেও রাতে ওই বাড়িতে এক নারী ভাড়াটিয়াকে আশ্রয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

বাড়ির মালিক মোক্তার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ দিন ইতালিতে থাকেন। ২০১০ সালে তেতুলতলা এলাকায় ১৭ শতাংশের একটি জমি কেনার পর সেখানে বাড়ি করে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। এদিকে গত দুই বছর যাবৎ স্থানীয় হাবিবুর রহমান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রবাসীর কেয়ারটেকার চান মিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে চাঁদা না দেওয়ায় হাবিব তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কেয়ারটাকার চান মিয়াকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সন্ত্রাসীরা একে একে প্রবাসীর ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করে। এদিকে এ ঘটনার পর প্রবাসী দেশে ফিরে এসে এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি  করেন।’

বাড়ির মালিক মোক্তার হোসেনের অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে আশুলিয়া থানার এসআই আনিসুরের সহযোগীতায় সন্ত্রাসী হাবিব আবারও তার বাড়ি দখলের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ওই এসআইয়ের নির্দেশে একদল পুলিশ ময়না নামের এক নারীকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেয়।

এসআই আনিসুর রহমান বলেন, ‘ময়না নামের এক নারী আশুলিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন। এই কারণে তাকে রাতে ওই বাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসা হয়।’

ময়না জানান, স্থানীয় হাবিবের কথায় গত কয়েক মাস যাবৎ তিনি ওই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তবে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় তিনি দুই দিন আগে পাশের এক বাড়িতে চলে যান। এরপর রবিবার রাতে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল এসে তাকে আবারও ওই বাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন বাড়ির মালিক।বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা নেই। তবে পুলিশের কোনও সদস্য যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’