বুধবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিশ্বদ্যিালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের ফটকগুলোতে তালা ঝুলিয়ে সেগুলোর সামনে অবস্থান নেন শিক্ষকরা। ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর ব্যানারে এই অবরোধ চলছে।
উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেন শরীফপন্থীরা। এর অংশ হিসেবে ভোরে পরিবহণ ডিপোতে তালা ঝুলিয়ে পরিবহণ অবরোধ করেন তারা। এ অবরোধে ফারজানাপন্থী শিক্ষকরা বাধা দিলে ভোর পৌনে পাঁচটায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু’পক্ষের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় গতকাল দিনভর শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
হাতাহাতির ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। শরীফপন্থী শিক্ষকরা কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘হামলার’ প্রতিবাদে অবরোধের ডাক দেন।
এদিকে প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
শরীফপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ছয়জন শিক্ষকের ওপর হামলা চলিয়েছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা। একজন উপাচার্যপন্থী শিক্ষককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই এটি নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য উপাচার্য শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন। তিনি বিচার না করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। আমরা ওই সভা বয়কট করেছি।’
বেলা ১২ টায় অবরোধ কর্মসূচি শেষে কালো ব্যাজ ধারণ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য হিসেবে ফারজানা ইসলাম পুন:নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হতে থাকে। সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির ও বর্তমান উপাচার্য ফারজানা ইসলাম এই দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা।
আরও পড়ুন:
জাবিতে শিক্ষকদের হাতাহাতির ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
জাবি’তে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দু’পক্ষের হাতাহাতি
হাতাহাতির ঘটনায় জাবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দু’পক্ষে উত্তেজনা