মরণফাঁদ জেনেও রেললাইনই বিনোদনকেন্দ্র!

 

রেলসেতুর ওপর দর্শনার্থীদের ভিড়ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে গত সোমবার (১৮ জুন) নরসিংদী শহরতলীর বাদুয়ারচর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ঈদ ও নববর্ষ উপলক্ষে শহরতলীর বাদুয়ারচর ও পুরানপাড়া রেলসেতু এলাকায় ঘুরতে এসে অনেকেই ট্রেনে কাটা পড়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।এসব দুর্ঘটনার পরও শহরে বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে এই রেললাইনেই ভিড় করছেন সবাই।

রেলসেতুর ওপর দর্শনার্থীদের ভিড়






রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরই ঈদ, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবে বাদুয়ারচর ও পুরানপাড়া রেলসেতু ও রেললাইনে ঘুরতে আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।শিশু ও নারীসহ অনেকে পায়ে হেটে পার হন রেলসেতু ও রেল লাইন। এসময় তারা সেতুর ওপরে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।ডাবল লাইন চালু হওয়ার পর ঢাকা-চট্রগ্রাম,ঢাকা-সিলেট,ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে বেড়েছে ট্রেন চলাচলের সংখ্যাও। কয়েক মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করছে।এতে করে রেললাইন ও সেতুতে বসে থাকা বা পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বা কাটাপড়ে অনেকে প্রাণ হারান।

রেলসেতুর ওপর দর্শনার্থীদের ভিড়

নরসিংদীর রায়পুরা থেকে এখানে ঘুরতে আসা মাহবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতি ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসি। আমার মতো অনেকেই আসেন। আমি জানি, জায়গাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ। এরপরও বাচ্চাদের আবদার রক্ষা করতে আসতে হয়।’

নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড় মহল্লার শাহিন মিয়া বলেন, ‘বেড়ানোর মতো পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় শহরের কোলাহল ছেড়ে এখানকার রেললাইনে আনন্দ উপভোগ করতে আসি। প্রতিনিয়ত ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে তা জেনেও আসি।’

রেলসেতুর ওপর দর্শনার্থীদের ভিড়

বাদুয়ারচর পূর্বপাড়ার শরীফ হোসেন বলেন, ‘গত সোমবার একই পরিবারের তিনজন (বাবা ও দুই মেয়ে) ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারানোর পরও মানুষকে থামানো যাচ্ছে না। তারা ঝুঁকি নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন।’ একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শাওন মিয়া বলেন,‘শুধুমাত্র সচেনতা সৃষ্টিতে এখানকার দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। রেলসেতুতে ওঠার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কার্যকর করতে হবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।’

ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও এই স্থানটিতে লোকজন ঘুরতে আসেন জানিয়ে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সায়েম চৌধুরী (উপপরিদর্শক) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ এবং রেললাইন ও রেলসেতুতে চলাফেরা না করতে বরাবরই সতর্ক করে থাকি। এরপরও কাজ হচ্ছে না। রেলসেতুতে ওঠা বন্ধ করতে পারেন একমাত্র রেলকর্তৃপক্ষ। যা আমরা পারি না।’ এ বছরের ২০ জুন পর্যন্ত নরসিংদী থেকে রায়পুরার মেথিকান্দার ১৭ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।