গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুই ইভিএম কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে ভোট ভোটার ৪০০৪ জন। এতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নৌকা প্রতীকে পড়েছে ১২৬৫ এবং বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের ধানের শীষে পড়েছে ৫০৮ ভোট। কেন্দ্র দুটি হলো রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (পুরুষ কেন্দ্র) ও রানী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (মহিলা কেন্দ্র)। প্রিজাইডিং অফিসার সেলিম উল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রিজাইডিং অফিসার জানান, রানী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-১-এ মোট ভোটার ১৯২৭। এতে নৌকায় ৬৫৫, ধানের শীষে ২৯৬, কাচি ২৫, মিনার ৬, টেবিল গড়ি ৮, মোমবাতি ২০৭ ও হাতপাখা প্রতীকে ২৪ ভোট পড়েছে।
রানী বিলাসমনি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২-এর মোট ভোটার ২০৭৭। এই কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে পড়েছে ৬১০, ধানের শীষে পড়েছে ২১২ ভোট।
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিকাল চারটার পর শুরু হয় ভোট গণনা। বিভিন্ন কারণে সাতটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
দিনের শুরুতে উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে, জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নগরীর কাসেমপুরে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী হাক্কানিয়া ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এছাড়া, ব্যালট পেপার সংকটের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপি মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি)। ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী সাতজন হলেও মূল লড়াই হবে জাহাঙ্গীর আলম ও হাসান সরকারের মধ্যে।
গাজীপুরে এবার মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ জন ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। এ সিটিতে এবার নতুন ভোটার এক লাখ ১১ হাজার। এছাড়া, শ্রমিক ভোটার দুই লাখের বেশি। সিটির ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৮টিকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে ৩৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৫৪ জন। সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে ৮৪ নারী কাউন্সিলর নির্বাচন করছেন।