পরিবহন শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, স্কুল ইউনিফরম দেখে মারধরের অভিযোগ

222

বুধবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ জেলায় থাকা অংশ ৮ ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রেখেছিল পরিবহন শ্রমিকরা। জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ওই অবরোধ চলাকালে পরিবহন শ্রমিক ও যানবহনের নিরাপত্তার দাবি তোলা হয়। ঢাকার উত্তরায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে পালিত কর্মসূচির পাল্টা প্রতিবাদ আজানায় শ্রমিকরা। বুধবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঢাকা অভিমুখী ও ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট অভিমুখী যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যাত্রীর শারীরিকভাবে নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মনিরুল  ইসলাম জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ব্যাপকভাবে যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের ও যানবাহনের নিরাপত্তার দাবিতে সকাল ৭টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শ্রমিকদের সঙ্গে যফ দেন  পরিবহন মালিকরাও। তারা এ সময় সরকারের কাছে যানবাহন ও তাদের নিরাপত্তা প্রদানসহ ভাঙচুরের শিকার যানবাহনের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানবাহন চলাচল একবারেই বন্ধ হয়ে যায়।

111মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। যাত্রীদের অনেককে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।  পুলিশের সামনেই পরিবহন শ্রমিকরা লাঠি হাতে মারমুখী হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও পথচারীদের উপর হামলা করে। আহত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পুলিশকে এ সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টায় মিজানুর রহমানসহ ৪ জন শিক্ষার্থী পরিবাহন শ্রমিকদের হামলার শিকার হন। মিজানুর ঢাকার রায়েরবাগ এলাকার রায়েরবাগ আল-মাহমুদ হাই স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। এদিকে তিনজন পথচারীকেও পরিবহন শ্রমিকরা মারধর করেছে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা কাপড় ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, স্কুল ড্রেসের মতো দেখতে পোশাক পরে থাকায় শ্রমিকরা শিক্ষার্থী মনে করে তাদের মারধর করেছে।
একজন যাত্রী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে তিন-চারশ টাকা খরচ করে ঢাকা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে পৌঁছাতে হয়েছে। শিমরাইলে অবস্থান করা চট্টগ্রামের যাত্রী আকবর হোসেন জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কোনও যানবাহনে উঠতেই পারেননি তিনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন ও সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কাইয়ুম আলী সরদার জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। যানজট সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতেও ছড়িয়ে পড়ে।