শামীম ওসমান ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ছাত্ররা যেভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে এসেছে তা দেখে আমি অভিভূত। তোমরা সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি আটকিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখিয়ে দিয়েছে ছাত্রসমাজ জেগে উঠলে সবই পারে। আমি তোমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমি কথা দিচ্ছি তোমরা যেভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে কাজ করছো, নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশ সেভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আজ থেকে তোমরা তোমাদের আন্দোলন রবিবার বিকাল পর্যন্ত স্থগিত করে দেখো পুলিশ তাদের সেই দায়িত্ব পালন করে কিনা। যদি তারা সেই দায়িত্ব পালন না করে, রবিবার দুপুরের পর তোমাদের সঙ্গে আমি নিজে মাঠে নামবো।’
এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ বিকালে রাস্তায় নামে। এসময় তারা পপুলার ডায়গনেস্টিক সেন্টার থেকে চাষাঢ়া রেললাইন এবং রাইফেল ক্লাবের মোড় পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান চলাচল করতে পুলিশকে সহায়তা করে। তারা নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের রিকশা লেনে রিকশা এবং গাড়ির লেনে গাড়ি চলাচল করতে যানবাহনকে নির্দেশনা দেন। এছাড়া উল্টো পথে আসা গাড়ি ঘুরিয়ে দেন এবং যত্রযত্র গাড়ি থামিয়ে পার্কি করা থেকে বিরত রাখেন। এছাড়া তারা বিভিন্ন যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। যেসব গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং গাড়ির বৈধ কাগজপত্র নেই তাদের গাড়ি আটকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, দুপুরে শামীম ওসমানের আহ্বানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যেসব গাড়ির চাবি নিয়েছিল তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে রাস্তা থেকে চলে গিয়েছে। তবে বিকালে কিছু শিক্ষার্থী আবার মাঠে নেমেছে। আমারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ করছে।