গাজীপুরের কাপাসিয়া সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে পাঁচ সদস্যই পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সনমানিয়া খোকা মার্কেট এলাকায় সভা করে তারা পদত্যাগ করেন। এসময় তারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। তাদের অভিযোগ মেয়াদ থাকার পরও তা ভেঙে দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কারণে তারা নতুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগ করা নেতারা হলেন,সনমানিয়া ইউনিয়ন সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম তপন মেম্বার, সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মেম্বার, জয়নাল আবেদীন ও সামসুল হুদা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকানুল ইসলাম মুকুল ।
সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরিাজ উদ্দিন বিএসসি জানান, ২০০৮ সালে কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মেয়াদ ২০১১ সালেই শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওই কমিটি কোনও কমিটি ভেঙে দেওয়া কিংবা নতুন কমিটি গঠনের কোনও ক্ষমতা রাখে না।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ আগস্ট কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ কয়েকজন নেতা বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ’র ছেলে রিয়াজুল হান্নানের ঢাকার বাসায় বসে একটি মিটিং করেন। ওই মিটিংয়ে গঠণতন্ত্র না মেনে এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আট সদস্যের সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে খোকা মার্কেট এলাকায় সভা করে স্থানীয় নেতারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিমকে কাপাসিয়ায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির প্রবীণ নেতা সিরাজ উদ্দিন বিএসসি, মোফাজ্জল হোসেন মেম্বার, সামছুল হুদা, সাদেকুর রহমান, তাজ উদ্দিন খান, কামাল হোসেন, জুয়েল মিয়াসহ স্থানীয় নেতারা।
সাবেক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত নেতারা গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি বরাবর তাদের পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কমিটির আরেক সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, কোনও কারণ ছাড়াই ২০১৬ সালে গঠিত দুই বছর মেয়াদী সনমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির মেয়াদ শেষ না হতেই নতুন কমিটি গঠন করা ঠিক হয়নি। অথচ মেয়াদ উত্তীর্ণ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের কোনও খবর নেই।
সনমনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির পদত্যাগকারী সদস্য ও ইউপি মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন জানান, টাকার বিনিময় ও অধিক তদবিরের মাধ্যমে এ কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা খালেদা ও তারেক জিয়ার রাজনীতি করি। কাপাসিয়া বিএনপি প্রবীণদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করে না বলেই দলের এ বেহাল দশা।
কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত হোসেন সেলিম জানান, সাংগঠনিক প্রয়োজনেই আগের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত ওই কমিটির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। পদবঞ্চিতদের কিছু ক্ষোভ থাকতেই পারে। ২০০৮ সালে গঠিত তিন বছর মেয়াদী উপজেলা বিএনপি কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত ওই কমিটিই দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কমিটি গঠনের দায়িত্ব জেলা কমিটির।
এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়্যেদুল আলম বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।