রূপগঞ্জে লিজ গ্রহীতার জমি দখলে আলমাছ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জমির দখল নিতে তারা জমির লিজ গ্রহীতার বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ও লিজ গ্রহীতাকে মারধর করেছে। বুধবার সকালে উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকায় লিজ গ্রহীতার বাড়িতে সন্ত্রাসী ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, রূপগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম।সন্ত্রাসীদের হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত সিমেন্টের পিলার সংশ্লিষ্ট সরকারি জমিটির লিজ গ্রহীতা সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, তার বসত ভিটা সংলগ্ন মুড়াপাড়া মৌজার ২০০, ১৫১ ও ১৫৩ নং খতিয়ানে বিভিন্ন দাগে ৮১ শতাংশ জমি ১৯৬৬ সাল থেকে তার মা মরিয়ম বেগমের নামে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেওয়া হয়, যার বরাদ্দপত্র  নম্বর ৩৭৬/৬৬। এরপর থেকে ওই  জমিতে চাষাবাদ ও গাছপালা লাগিয়ে ভোগ দখল করে আসছিলেন তারা। মায়ের মৃত্যুর পর ওই  সম্পত্তি ৯ ভাই-বোনের নামে পূর্ণভাবে বরাদ্দ নেন।

সম্প্রতি মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ ও তার বাহিনীর সদস্যরা নানাভাবে তাকে হুমকি দিচ্ছে, যেন তিনি তার  ভোগ দখলে থাকা  ৪৩ শতাংশ জমিতে চাষাবাদসহ অন্য কোনও কাজ নয়া করেন। বুধবার সকালে জমির সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া দিতে গেলে চেয়ারম্যানের ক্যাডার  দেলোয়ার, মামুন, মাহফুজসহ অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  সাখাওয়াতের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ও বসত ঘর রামদা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা সাখাওয়াতের জামাতা আল-আমিনের মোটরসাইকেল ও সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় জন্য আনা দুই শতাধিক সিমেন্টের পিলার ভেঙে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা সাখাওয়াত হোসেন (৫৫), তার মেয়ে সুপ্রভা তাসনিন (২১), ও ভাগ্নে কামরুলকে (২৮) পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘লিজ গ্রহিতা সকল নিয়মকানুন মেনে ভূমি অফিস থেকে লিজ নিয়েছেন।  তাদের লিজ নেওয়া জমির  লিজমানিও পরিশোধিত রয়েছে। তার বাড়িতে হামলা করা ও জমি থেকে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা সম্পূর্ণ বেআইনী । অভিযোগ পেয়েছি বেশ কিছু দিন ধরে চেয়ারম্যান আলমাছ এই জমিটি দখলে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।  যদি ইউপি চেয়ারম্যান জড়িত থাকেন তাহলে তাকেসহ যারা এই ঘটনায়  জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘ঘটনা শোনার সাথে সাথে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।