জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য রুনা ইসলাম দম্পতির ছোট মেয়ে ছোয়া মনির জ্বর হলে সোমবার বিকেলে ওই ক্লিনিকে নেওয়া হয়। ওই সময়ে ডা. সাজ্জাদ হোসেন সুমন ওই শিশুর চিকিৎসা করান।
শিশুটির মা ও সাবেক ইউপি সদস্য রুনা ইসলাম বলেন, মেয়ের জ্বর হলে নতুন সেবা ক্লিনিকে নেওয়া হলে ডা. সাজ্জাদ হোসেন সুমন দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। পরে বাড়িতে নিয়ে আসলে তার শরীর নীল রঙের হয়ে যায়। ডাক্তার সুমনকে ফোন দিলে মেয়ের মাথায় পানি ঢাললে ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান। কিন্তু রাত ৮টার দিকে আমার মেয়ের শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একাধিকবার ডাক্তার সুমনকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। রাত ১২টার দিকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মেয়ে মারা যায়।
সোনারগাঁ মানবাধিকার কমিশনের সভানেত্রী জাহানারা আক্তার বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এভাবে ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। ছোয়া মনির মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা ছাড়া কিছুই নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্ত ডাক্তারকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত ডা. সাজ্জাদ হোসেন সুমন বলেন, হাসপাতালে আনার পর রোগীর জ্বর হয়ে খিচুনি হতে থাকে। রোগীর মাথায় ইনফেকশন থাকায় রোগীকে নেগেটিভ ভেবেই চিকিৎসা করিয়েছি। তবে আমার ১৮ বছরের অভিজ্ঞতায় আমার ভাগ্য খারাপ হওয়ায় এ রোগী মারা যায়। তবে আমার চিকিৎসায় কোন গাফলতি ছিল না।
সোনারগাঁ থানার এসআই সাধন বসাক বলেন, বিষয়টি অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযুক্ত ডাক্তার দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন সেবা ক্লিনিকের পরিচালক মনির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ডাক্তারের বিষয়ে তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, নিহত শিশুর পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করার সুপারিশ করেছি।