জাহাঙ্গীরনগরে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই পক্ষে ধাক্কাধাক্কি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দীর্ঘ ১৫ মাস পর ডাকা সিন্ডিকেট সভাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাকির ঘটনা ঘটেছে। উপাচার্য ফারজানা ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য  শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকেরা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। বুধবার (০৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
ধাক্কাধাক্কির সময় কাউন্সিল কক্ষে চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০৩তম নিয়মিত সিন্ডিকেট সভা। নতুন শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, নিয়োগ স্থায়ীকরণসহ আরও কয়েকটি বিষয় সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল। সভার বাইরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনার পর প্রশাসনিক ভবনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা শুরু হয়। এসময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৫০-৬০জন নেতা-কর্মীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। 

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ভোরে ওই দুই পক্ষের শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল।

জানা যায়, বিকাল চারটায় প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভাকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ফারজানাপন্থী শিক্ষকরা আগে থেকেই প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেন। মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন পর্ষদে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়োগ স্থগিত রাখার দাবি নিয়ে বিকাল চারটায় সাবেক উপাচার্য শরীফপন্থী শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনে যান। পরে তারা কাউন্সিল কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

সোয়া চারটার দিকে বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি এবং সিন্ডিকেট সদস্য মোতাহার হোসেন মোল্লা সভায় যোগ দিতে কাউন্সিল কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে শরীফপন্থী শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়েন। এসময় ফারজানাপন্থী শিক্ষকরা মানবঢাল তৈরি করে তাকে কাউন্সিল কক্ষে প্রবেশ করাতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের শিক্ষকরা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। মোতাহার হোসেন মোল্লা প্রবেশের পর পাঁচটার দিকে শরীফপন্থী সিন্ডিকেট সদস্য উপ-উপাচার্য আমির হোসেন এবং বাংলা বিভাগের নাজমুল হাসান তালুকদার সভা বর্জন করে বের হয়ে আসেন।

শরীফপন্থী সিন্ডিকেট সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের ছাড়াই অনুগত সদস্যদের নিয়ে সভা শুরু করেন সিন্ডিকেট সভাপতি ফারজানা ইসলাম। তারা কাউন্সিল কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে তারা সভাকক্ষে প্রবেশের সুযোগ পান। সিন্ডিকেট সদস্য ১৭জন হলেও মাত্র ৬ সদস্যের কোরাম নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে মোতাহার হোসেন মোল্লা একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তিনি সিনেট ও সিন্ডিকেটে শরীফ এনামুল কবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচন করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি ফারজানা ইসলামের দলে ভিড়েছেন।

সিন্ডিকেট সভা চলাকালেই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রশাসনিক ভবন চত্ত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন শরীফপন্থী শিক্ষকরা। তাদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর মুখপাত্র দর্শন বিভাগের শিক্ষক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘সিন্ডিকেটে নতুন নিয়োগ না দিয়ে শুধু পদোন্নতি, নিয়োগ স্থায়ীকরণ ও শিক্ষার্থীদের সনদ অনুমোদনের জন্য উপাচার্যের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবেশ তৈরি করা হলো তা কোনওভাবেই কাম্য নয়। এমন পরিবেশে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে না। যারা গত ১৭ এপ্রিল শিক্ষকদের মারধর করেছে তারাই এজন্য দায়ী। ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ না মেনে কোনও ব্যক্তি ইচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।’

এদিকে, সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ৪টা ৫০মিনিটে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনে যান। এর ঘন্টাখানেক পর এক সংবাদ সম্মলনে তারা অভিযোগ করেন, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক থাকাকালে উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। দেড় বছর আগে আহ্বান করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবৈধভাবে নতুন নিয়োগ দিয়েছেন ।

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বিভাগ উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

উল্লেখ্য, এ বছরের মার্চে ফারজানা ইসলাম দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্ধ চলে আসছে।