এদিনে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তাজরীন ফ্যাশনস –এ আগুন ছড়িয়ে পড়লে কারখানাটির ভেতর আটকা পড়েন শত শত শ্রমিক। পরে অনেক শ্রমিক ছাদ থেকে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নেমে জীবন বাঁচান। অনেকে আবার প্রাণ বাঁচাতে ছাদ থেকে লাফ দেন। যারা ছাদে যেতে ব্যর্থ হন তাদের অনেকে জানালা দিয়ে লাফ দেন, অনেকে আবার জানলা দিয়ে বের হয়ে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নামেন। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। আজও সহকর্মীদের বাঁচার আকুতি তারা ভুলতে পারেননি।
সরেজমিনে তাজরীন কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কারখানা ভবনের প্রধান ফটকটিতে তালা ঝুলে আছে। ভাঙা জানালার গ্লাসগুলো তাকিয়ে আছে সড়কের দিকে। কর্মচঞ্চল ভবনটি এখন রূপ নিয়েছে ভূতুড়ে বাড়িতে।
আয়শা বেগম ও পারভিন আক্তারসহ আহত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, তখনকার সহকর্মীদের বাঁচার আকুতি এখনো কানে ভেসে আসে। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায় বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদে। শরীরের প্রচণ্ড ব্যথ্যা। ডাক্তার বলেছে যতদিন বাঁচি এভাবেই থাকতে হবে। এক সময়কার কর্মক্ষম ব্যক্তি এখন অক্ষম হয়ে বেচে আছি। অভাবের সংসারে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এর চেয়ে মৃত্যু ভালো।
বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের সাভার-আশুলিয়া থানা কমিটি সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘তাজরীনের ঘটনায় অনেক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব শ্রমিকদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে পুনর্বাসন করলে সেসব শ্রমিকরা ভয়কে জয় করে নতুন করে বাঁচতে শিখতে পারবে। তাই সরকার দ্রুত আহত শ্রমিকদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা।’