টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ৩ দফা দাবিতে তিনি অবস্থন ধর্মঘট করছেন। রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরের পর থেকে তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে পালন করছেন।
পরে রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে রাত ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে তিনি তাঁবু টাঙিয়ে নেন। দাবি পূরণ না হওয়া লতিফ সিদ্দিকী ওই তাঁবুতেই রাত কাটান। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতেও তিনি তাঁবুর নিচে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে এ হামলার দায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারির ওপর দেওয়ায় তার নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এর প্রতিবাদে কালিহাতি উপজেলার এলাঙ্গায় তার সমর্থকরা প্রতিবাদ সভা ও লতিফ সিদ্দিকীর কুশপুত্তলিকা দাহ এবং বিক্ষোভ মিছিল করে।
মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে লতিফ সিদ্দিকীকে কালিহাতি থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে সোহেল হাজারির কর্মী সমর্থকরা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা লতিফ সিদ্দিকীকে প্রচারণা বন্ধের হুশিয়ার দিয়ে বলেন, অন্যথায় প্রত্যেক জায়গায় তার নেতাকর্মীদের প্রতিহত হবে।
সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মালেক ভুঁইয়া, সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুন্নবী সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র আহ্বায়ক মেহেদী হাসান তুহিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর সমর্থকরা এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতি উপজেলায় সরাতৈল নামক স্থানে তার নির্বাচনি প্রচারণায় গেলে সেখানে লতিফ সিদ্দিকীর চারটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। লতিফ সিদ্দিকী এ হামলা বর্তমান সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারির ইন্দনে হয়েছে বলে দাবি করেন। এসময় তার কয়েকজন কর্মী আহত হয়। পরে লতিফ সিদ্দিকী এঘটনার প্রতিবাদে জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অনশন করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে।