এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি; প্রতিবারই এমপি হন আব্দুল মান্নান। ২০০৮ সালে ধানের শীষের মান্নানকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের মান্নান খান জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম জয়লাভ করেন।
এবার ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খোন্দকার আবু আশফাক এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তার উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগের কাগজপত্র ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের অফিসে না যাওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা আবারও স্থগিত করেন। প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পেতে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন।
এই আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান নৌকা প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম মোটরগাড়ী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. কামাল হোসেন মিয়া হাতপাখা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সেকান্দার কোদাল, বিকল্পধারার জালাল উদ্দিন কুলা ও জাকের পার্টির সামসুদ্দিন আহম্মেদ গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা জমে উঠেছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক করছেন তারা। ভোটাররা মনে করছেন শেষ মুহূর্তে বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আশফাক আদালত থেকে মনোনয়ন ফিরে পেলে লড়াই হবে ত্রিমুখী। আর বাতিল হলে এই আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মহজোট প্রার্থী শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের মধ্যে লড়াই হবে। তবে ভোটের মাঠে নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির রিজার্ভ ভোট। বিএনপির প্রার্থী না থাকলে যে প্রার্থী বিএনপির ভোট আদায় করতে পারবে তারই বিজয় হবে। সালমান এফ রহমানের বাড়ি দোহার উপজেলায় আর সালমা ইসলামের বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলায়।
দোহারের চেয়ে নবাবগঞ্জে প্রায় ১ লাখ বেশি ভোট রয়েছে। দোহার পৌরসভাসহ মোট ৮টি ইউনিয়ন ও নবাবগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১ আসন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪২১ জন। দোহারে মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৭৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৮ হাজার ১৬৮জন আর নারী ভোটার ৯০ হাজার ৩০৯ জন। নবাবগঞ্জে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৫১ জন, আর নারী ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৯৩ জন।