দীর্ঘ ১৩ বছরেও চালু হয়নি গোপালগঞ্জ জেলা শহরের একমাত্র বাস-টার্মিনালটি

 

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের একমাত্র বাস টার্মিনাল

গোপালগঞ্জের পৌর বাস টার্মিনাল উদ্বোধন হয়েছে এক যুগেরও আগে। কিন্তু নানা অজুহাতে এখনো পুরোদমে চালু হয়নি। মালিকদের অভিযোগ স্থানীয় বাস মালিক সমিতি ও পৌর কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছার অভাবেই টার্মিনালটি চালু হয়নি। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে বাস রাখায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও পৌর মেয়র বলছেন,‘আয়তনে ছোট হওয়ায় টার্মিনালটি চালু করা যাচ্ছে না। তিনি টার্মিনালটি বড় করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।’

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গায়ে গোপালগঞ্জ শহরতলীর কারারগাতীতে দীর্ঘ ১৩ বছর আগে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনালটি ২০০৫ সালের ২ জুলাই উদ্বোধন হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। ব্যবহার না করার কারণে এই ভবনটিতে এখন ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।

সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। যদিও এনিয়ে মাথা ব্যাথা নেই স্থানীয় বাস-মালিক সমিতি ও পৌর কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি শহরের কুয়াডাঙ্গার পুরনো বাস টার্মিনালে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় শহরের পুলিশ লাইন মোড় থেকে গেটপাড়া পর্যন্ত মূল সড়কের যেখানে-সেখানে বাস রাখায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এ কারণে বাসগুলো বার বার মেইন রাস্তায় না রাখার জন্য মালিক সমিতির নেতাদের অনুরোধ করছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। 

গোপালগঞ্জের বাস টার্মিনাল

১/১১ আমলে অল্প কিছুদিন টার্মিনালটি হঠাৎ করে আপনা-আপনি পুরোপুরি চালু হলেও পরবর্তী সময় অদৃশ্য কারণে আবার বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় সাধারণ বাস মালিকদের অভিযোগ, বাস মালিক সমিতি ও পৌর কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছার অভাবেই টার্মিনালটি চালু হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানায়, নতুন বাসস্ট্যান্ডটি গোপালগঞ্জ শহর তলীর হরিদাসপুর ও বেদগ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে বেদগ্রামবাসীর অনুকূল স্থানে। এই বাস টার্মিনালটি চালু করা হলে সেখানে হরিদাসপুরের যে সব লোকজন কুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনালের সুবিধা ভোগ করে আসছে তাদের কোনও কর্তৃত্ব থাকে না, আর এ কারণেই মূলত ওই বাস টার্মিনালটি চালু হচ্ছে না, এমনটাই মনে করছেন গোপালগঞ্জবাসী।

গোপালগঞ্জ নতুন বাস-টার্মিনালটি চালু না হওয়ার কারণ হিসেবে গোপালগঞ্জ পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী বলেন,‘বাস-টার্মিনালটি আয়তনে ছোট হওয়ায় গোপালগঞ্জের সব রুটের বাস এখানে রাখা সম্ভব না। যে কারণে নতুন এই বাস টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, আগামীতে ওই বাসস্ট্যান্ডটি আয়তনে বড় ও দৃষ্টি নন্দন করে চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলজিইডি গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে ফজলুল হক বলেছেন,‘ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গায়ে গোপালগঞ্জ শহরতলীর কারারগাতীতে ২০০৫ সালে আমরা একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করি। লক্ষ্য ছিল শহরের যানজট কিছুটা হলেও কমানো। বাস মালিকরা ইচ্ছে করেই শহরের কুয়াডাঙ্গা ও পুলিশ লাইন এলাকার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করে রেখেছে।’

গোপালগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শেখ মুশফিকুর রহমান লিটন বলেন,‘নতুন বাস-টার্মিনালটি আয়তনে ছোট হওয়ায় গোপালগঞ্জের সব রুটের বাসগুলো এখানে রাখা সম্ভব না। যে কারণে নতুন এই বাস টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, আগামীতে পুলিশ লাইনের সামনে আয়তনে বড় ও দৃষ্টি নন্দন করে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা নির্মাণ হলে শহরের কুয়াডাঙ্গা ও পুলিশ লাইন এলাকার রাস্তায় যানজট থাকবে না।