গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে র্যাগ দেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাজমুল হক বাদী হয়ে ওই ৬ ছাত্রের নামে গোপালগঞ্জ সদর থানার মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলো, ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ই.টি.ই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের মো. নূরুল হকের ছেলে শিপন আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার দেয়াবৈ গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে শাহীন মিয়া, টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার বারাপুষা গ্রামের মো. আব্দুল হালিমের ছেলে নাদিম ইসলাম, শেরপুরের নকলা গ্রামের তপন কুমার ধরের ছেলে হৃদয় কুমার ধর, ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজারের শুধাংশু ভূষণ হাওলাদারের ছেলে তূর্জয় হাওলাদার ও ফরিদপুরের মধুখালীর পূর্ব গাড়াখোলা গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান খানের ছেলে আশিকুজ্জামান লিমন।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে ওই ৬ শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শনিবার (০২ জানুয়ারি-২০১৯) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র মো. রাজেশ হোসাইন শিথিল ও মাহামুদুল হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের গোবরা এলাকার সোবাহান সড়কের অলি সাহেবের মেসে নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সময় তাদের শারীরিক নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে অশালীন আচরণ ও অশ্লীল বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বুধবার দুপুরে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত সোমবারের প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত ওই ছয় ছাত্রের নামে মামলা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নুরউদ্দিন আহম্মেদ জানান, বুধবার আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত ওই ছয় ছাত্রের অভিভাবকদের নামে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বহিষ্কারাদেশ পাঠানো হয়েছে।