গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী চান্দার বিলসহ অন্যান্য বিলের শোল, টাকি, পুটি, টেংরা, বাইম,কাকিলাসহ ছোট বিভিন্ন জাতের চিংড়ির শুটকির সারাদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্রগ্রাম, সৈয়দপুর, রংপুর,কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে প্রচুর চাহিদার কারণে মৌসুমের শুরুতেই গোপালগঞ্জে প্রচুর শুটকি তৈরি হয়। মিঠাপানির শুটকি হওয়ায় এ অঞ্চলের শুটকির চাহিদা ও দাম বেশি।
আশ্বিন-ফাল্গুন এই ছয় মাস গোপালগঞ্জে শুটকি তৈরির মৌসুম । আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ন পর্যন্ত বিলে জেলেদের জাল, বরশি,আলোধারায় প্রচুর মাছ ধরা পড়ে এবং পৌষ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত বিলের কুয়া বা পুকুর গুলোতে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয় । আর এই মাছের সিংহ ভাগই ব্যবহৃত হয় এখানকার শুটকি তৈরিতে।
শুটকি তৈরির মৌসুমে পুরুষদের পাশাপাশি এখানকার মহিলারাও হয়ে পড়েন কর্মব্যস্ত । মাছ বাছাই, কাটা-ধোয়া,শুকানো এবং ঘরে তোলার কাজ মহিলারাই করে থাকে । মাছ বাছাই করতে আসা মহিলারা জানান, মাছ কাটা,ধোয়া, বাছাইয়ের কাজ করে প্রতিদিন ৬০-৭০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। আবার অনেকেই মাছের পেটা বা তেলের বিনিময়ে কাজ করে।
শুটকি মৌসুমে এলাকার টেকেরহাট বন্দর, রাজৈর, জলিরপাড়, বানিয়ারচর ও সাতপাড়ের বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও কর্মতৎপরতা বেড়ে যায়।
বহু বছর ধরে শুটকি তৈরির কাজ করে আসছেন বানিয়ারচরের অমল বাড়ৈ। তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে প্রাকৃতিক মাছ কমে যাওয়ায় শুটকির উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। যে কারণে তাদের ব্যবসাও কমে যাচ্ছে।