ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কোমায়!

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মরিয়ম সুলতানা মুন্নি নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকে তিনি কোমায় রয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। মুন্নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

অভিযোগ পাওয়া গেছে,নার্স রাশিদা তাকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ অভিযোগ মেনে নিয়েছে। পরে এ অবস্থায় তাকে খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে,এ ঘটনার পর হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন ওই নার্স।

মুন্নি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মো. মোশারফ হোসেন বিশ্বাসের মেয়ে।

তার বাবা জানান, ‘পিত্তথলির পাথরের কারণে আমার মেয়ে মুন্নিকে ডাক্তার তপন কুমার মণ্ডলকে দেখানো হয়। সোমবার (২০ মে) তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার তপনের অধীনে ভর্তি করা হয়।’

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মুন্নির অপারেশন করার সময় ধার্য ছিল। নার্স রাশিদা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মুন্নিকে গ্যাসের ইনজেকশনের পরিবর্তে ভুল করে অজ্ঞান  করার ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর তিনি জ্ঞান হরিয়ে ফেলেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালের পরিচালক ডা.ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কী করে একজন সিনিয়র নার্স ভুল ইনজেকশন পুশ করলেন এটা আমার বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগী যেন ভালো ট্রিটমেন্ট পায় সেজন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।’