মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আবীর হোসেন ও বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম এ. কে.এম শাহজাহান। এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, একই ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খান ও উপসচিব শাহ হাবিবুর রহমান হাকিমকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটিকেও সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান এই তথ্য জানান।
জানা যায়, নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ভাড়া করা একটি আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের লোকজন।
রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১নং ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুল সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন বলে ওই ফেরিকে অপেক্ষা করতে জেলা প্রশাসক ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু এর মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় স্কুলছাত্র তিতাস।
পরিবারের অভিযোগ, তিতাসকে বাঁচাতে তারা ফোন করেন জরুরি নাম্বার ৯৯৯- এ। সাহায্য চান ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরও। কিন্তু কারও অনুরোধই রাখেননি ঘাট কর্তৃপক্ষ।
তিতাসের বোনের অভিযোগ, ফেরিঘাটে থাকা কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার অনুরোধ করলেও ভিআইপি যাত্রী না আসা পর্যন্ত ফেরি ছাড়া হবে না বলে জানান। জীবনের দাম বেশি নাকি ভিআইপি’র?
অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চিকিৎসক ও সহকারীরা জানান, মস্তিস্কে প্রচুর রক্তক্ষরণে মাঝ নদীতে থাকা অবস্থায় ফেরিতেই তিতাস মারা যায়।
কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের ফেরি কুমিল্লার চালক সাইফুল ইসলাম জানান, রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ফেরিটি কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ছাড়ে এবং পৌনে ১২টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছায়। তবে ফেরি পৌঁছানোর আগেই স্কুলছাত্র মারা যায়।
বিআইডব্লিউটিসি মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, ‘পদ্মায় স্রোতের কারণে ১৮টি ফেরির মধ্যে মাত্র ৮টি ফেরি চলাচল সম্ভব ছিল। দ্রুত পারাপারের কথা বিবেচনা করে ওই অ্যাম্বুলেন্সটিকে ভিআইপি ফেরিতে ওঠানো হয়। তবে ফেরি ছাড়তে স্বাভাবিক যে সময় লাগে তার বেশি দেরি করা হয়নি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটের একাধিক দোকানদার জানান, ওই অ্যাম্বুলেন্সটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা ফেরিঘাটের দিকে দেখেছেন তারা। এরপর রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে কান্নকাটি করতে দেখেন। রাত ১১টার দিকে ফেরিটি ঘাট থেকে ছেড়ে যায়।
কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার শর্মা বলেন, ‘ওই স্কুলছাত্রের স্বজনরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘাটে কর্মরত পুলিশ অফিসে আসে। তখন কর্মরত ছিলেন টিএসআই নজরুল। তিনি তাদের নিয়ে রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেরিতে গিয়ে সেটি ছাড়ার ব্যবস্থা করেন।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পারাপারের ব্যাপারে আমি ফেরি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। ১নং ঘাট দিয়ে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা পার হয়ে থাকেন। তবে সেখানে মুমূর্ষু রোগীর ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিয়ে যদি ফেরি ছাড়তে দেরি করে তাহলে কর্তৃপক্ষ ভুল করেছে।’
আরও পড়ুন:
ফেরির অপেক্ষায় অ্যাম্বুলেন্সে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি