ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, টেপিবাড়িতে মন্ত্রী ত্রাণ দিতে আসবে এই বলে স্থানীয় মেম্বার (ইউপি সদস্য) মিনহাজ চেয়ারম্যানের সিলযুক্ত ত্রাণের স্লিপ দেয়। সোমবার ( ৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আসেন তারা। দুপুর ১২টার দিকে ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর আর ত্রাণ দেওয়া হয়নি। সেখানকার লোকজন জানান, আমাদের জন্য কোনও ত্রাণ বরাদ্দ নেই। পরে আমরা মিছিল নিয়ে পরিষদের সামনে যাই।
অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্যা আমাকে একশ পরিবারের স্লিপ দেয় ত্রাণ দেওয়ার জন্য। সে মোতাবেক তারাই গ্রামের একশ পরিবারের মাঝে স্লিপ বিতরণ করি। পরে টেপিবাড়িতে মন্ত্রী ১০ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে চলে যান। বাকি ৯০ জনের ত্রাণ সেখানে ছিল। কিন্তু, যারা ত্রাণের স্লিপ নিয়ে গেছে, তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মিছিল নিয়ে ইউএনও’র কাছে গেছে।’
অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের আইয়ুব আলী মোল্যা বলেন, ‘স্লিপ পাওয়া সবার মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। মন্ত্রী মহোদয় চলে যাওয়ার কারণে সেখান থেকে আমরাও চলে আসি। পরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদে গেছে। স্থানীয় মেম্বার মিনহাজের মাধ্যমে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ বলেন, ‘টেপিবাড়ি এলাকায় দুইশ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র অর্জুনা ইউনিয়নে আরও একশ’ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য চেয়ারম্যানের মাধ্যমে স্লিপ বিতরণ করেন। সেটি প্রশাসনিকভাবে না, বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। মেয়র একশ পরিবারের জন্য ত্রাণ পাঠানোর পর সেগুলো বিভিন্ন কাউন্সিলররা তাদের এলাকার লোকদের দেওয়ার জন্য নিয়ে যান। এজন্য অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পাননি। পরে অর্জুনার ওই স্লিপ পাওয়া ব্যক্তিরা এ ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার পর মেয়র স্লিপ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য আবার ত্রাণ পাঠিয়েছেন।’
সোমবার কয়েকটি স্থানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ত্রাণ বিতরণ করেন। এরমধ্যে পৌরসভার টেপিবাড়ি এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সিলযুক্ত স্লিপ নিয়ে বন্যা কবলিতরা যান। এর আগে অর্জুনা ইউনিয়নের তারাই গ্রামের একশ জনের হাতে ত্রাণের স্লিপ দেওয়া হয়। কিন্তু মন্ত্রীর ত্রাণের অনুষ্ঠানে ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভে মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান।