প্রশ্নফাঁসের পোস্ট দিলেই জিজ্ঞাসাবাদ, ডিজিটাল নকলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

খুলনা প্রতিনিধি
২৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৮

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়, যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকলের কবর আগেই রচনা করেছি। এবার থেকে নয়টি শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত কোনও পোস্ট ফেসবুকে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রমাণ চাইবে।

পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করানোর পরও যদি আগে থেকে কেউ বইপত্র রেখে আসে, তার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে শিক্ষকদের বেশি নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। এখন র‌্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে মূল্যায়ন পদ্ধতি যাচাই করা হবে। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী পাস হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের প্রতিটি স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করা হবে এবং এতে কোনও অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার কোনও স্তরেই সেশনজট থাকবে না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা। গত ২০ বছরে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামীণ স্কুল থেকে শহরে চলে আসা শিক্ষকদের আবার নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম তৌহিদুজ্জামান। এ সময় খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

/এম/
সম্পর্কিত
শুধু সার্টিফিকেটের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নয়: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের জন্য চার নতুন বই, এইচএসসির ফল ৩১ অক্টোবর
ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: শিক্ষামন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
উপকূলে লবণাক্ততায় কমছে ধানের ফলন, সংকটে চিংড়ি চাষও
উপকূলে লবণাক্ততায় কমছে ধানের ফলন, সংকটে চিংড়ি চাষও
অ্যাকশন শোধরানোর আগে আলিসের মানসিক দিকে দৃষ্টি সালাহউদ্দিনের
অ্যাকশন শোধরানোর আগে আলিসের মানসিক দিকে দৃষ্টি সালাহউদ্দিনের
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ ৪ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় আজ
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ ৪ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় আজ
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
আমজনতার তারেককে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
আমজনতার তারেককে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে রাখে, কীভাবে ঠিক হয় সেই নাম?
ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে রাখে, কীভাবে ঠিক হয় সেই নাম?
পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন সেই এমপি, আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যা বললেন
পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন সেই এমপি, আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যা বললেন
রাস্তায় হামলার শিকার সাবেক সচিব, মার খেয়ে করলেন মামলা
রাস্তায় হামলার শিকার সাবেক সচিব, মার খেয়ে করলেন মামলা