জুতাপেটা করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ থেকে রেহাই!




গোপালগঞ্জগোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় স্থানীয় মাতবরদের বিরুদ্ধে দুই যুবককে জুতাপেটা করে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা থেকে রেহাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। এরআগে, সোমবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অভিযুক্ত দুই যুবক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

জুতাপেটার শিকার দুই যুবক কোটালীপাড়া উপজেলার মান্দ্রা গ্রামের হাবিব শেখের ছেলে হামিদ শেখ (১৯) ও একই গ্রামের আনিস শিকদারের ছেলে হালিম শিকদার (১৮)।

এদিকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে সালিশ বৈঠকে মীমাংসা করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ওই স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার মেয়ে বাড়ির পাশে এক বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় হামিদ শেখ ও হালিম শিকদার তাকে আটকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় মেয়ের চিৎকারে তিনি ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এলাকার মুরব্বিদের অনুরোধে সালিশ বৈঠকের মাধ্যেমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। সালিশ বৈঠকে ওই দুই যুবককে জুতাপেটা করা হয়েছে। এছাড়া সাদা কাগজে একটি মীমাংসাপত্র লেখা হয়েছে। যেহেতু মেয়ের বিষয় তাই তিনি আইন আদালত করতে যাননি বলে জানান।

মান্দ্রা গ্রামের আজাহার শেখের বাড়িতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে হাবিব ডাক্তার, ইলিয়াস শেখ, হামিম শেখ, সালাম দাড়িয়া, ইলিয়াছ শেখ, মামুন শেখ, হাসান মিয়া নামে এলাকার অন্য মাতবররা উপস্থিত ছিলেন।

সালিশে উপস্থিত হাবিব ডাক্তার বলেন, এলাকার শান্তির জন্য হামিদ ও হালিমকে জুতাপেটা করা হয়েছে। মেয়েটি তার নাতি হয় দাবি করে বলেন, বিষয়টি আইন আদালতে গেলে মেয়ের বিষয়ে আরও লোক জানাজানি হতো। তাই যত কম লোক বিষয়টি জানে, সেই ব্যবস্থা করেছের মুরব্বিরা। তবে ওই দুই যুবকের অভিভাবকরাই তাদেরকে জুতাপেটা করেছে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযুক্ত হামিদ শেখের পিতা হাবিব শেখ দাবি করেন, আমার ছেলে ওই মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার মতো কোনও ঘটনা ঘটায়নি। সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। এরপরও এলাকার মুরব্বিদের রায়কে অসম্মান করিনি। তাদের দেওয়া রায় মেনে নিয়েছি।

কোটালীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করার আইনগত কোনও বিধান নেই। ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।