এর আগে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল ছাড়েননি। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ঝড়, বৃষ্টি বা যে ধরনের বাধাই আসুক না কেন তারা তা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। যতক্ষণ না দুর্নীতিবাজ ভিসি পদত্যাগ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নুরউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছি। তবে শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ছাড়েননি। শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাসের বাইরে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর, এ বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে, গত শনিবার ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের হামলায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর আবারও হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ূন কবীর পদত্যাগ করেছেন। পরে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত করে আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরিবেশ উত্তাল থাকায় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সেবা দিচ্ছে ধরিত্রী
ভিসি অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ‘ধরিত্রী গ্রুপ অব বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন থেকে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগঠনটি পরিচালনা করছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, অনশনসহ আন্দোলন করতে গিয়ে কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিনামূল্যে ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ করছেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। তারা ক্যাম্পাসে একটি বুথ খুলে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। অন্দোলনের মধ্যে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এদিন বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, একই দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মো. হুমায়ুন কবির।