ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, লাগাতার ১২ দিনের আন্দোলনের মুখে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপাচার্য নাসিরউদ্দিন পদত্যাগ করেন। উপাচার্যের পদত্যাগের পর মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নুরউদ্দিন আহমেদ জানান, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। আশারাখি এরমধ্যে একজনকে ভিসির দায়িত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে খোলার দিন থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে আন্দোলনের পর ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীশূণ্য হয়ে পড়ায় ক্যাম্পাসের আশপাশের দোকানগুলোতে এখন ক্রেতা নেই বললেই চলে। চায়ের দোকানদার রহিস সিকদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। এখন কোনও বেচা-কেনা নেই। বসে বসে অলস সময় পার করছি। আন্দোলনের সময় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই শিক্ষার্থীদের ভিড় লেগে থাকতো। বেচা-কেনাও ভালো হয়েছে।
ফাস্টফুড দোকানের মালিক রকিবুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। তাই শিক্ষার্থীরা বাড়িতে যাওয়ায় এখন বেচা-বিক্রি হচ্ছে না। লাগাতার আন্দোলনের ১২ দিনে শিক্ষার্থীদের ভিড় সামাল দিতে কষ্ট হতো। এখন আমরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আসার অপেক্ষায় আছি।
তবে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশের বিপক্ষে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলে ১৮ সেপ্টেম্বর জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই দিন রাতে চার জন শিক্ষার্থী ১৬ দফা দাবিতে ফেসবুক লাইভ করে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে আন্দোলনের ডাক দেন। পরে রাতেই ভিসিপন্থী শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে ও তাদের ম্যানেজ করে ১৬ দফা দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
কিন্তু, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন। এর মধ্যে উপাচার্যের বিভিন্ন অডিও ফাঁস হয়, আর আন্দোলনে যোগ হয় নতুন মাত্রা। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে অসুস্থতার কথা বলে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।