পদ্মা নদীতে অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের বিপরীতে যানবাহন পারাপারে ফেরিগুলোর দেরি হওয়ায় দুই পাশেই সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এ অবস্থায় দ্রুত যানবাহন পারাপারে ১৩টি ফেরিকে ওভারস্পিডে পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে যেকোনও সময় ফেরিগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বেলা তিনটা নাগাদ পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও তিনশ’ পণ্যবাহী ট্রাক পার হওয়ার অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। অন্যদিকে উথলী-আরিচা পর্যন্ত যানবাহনের প্রায় ছয় কিলোমিটার লম্বা সারির সৃষ্টি হয়েছে। আরিচা ফেরি সেক্টরে এজিএম (ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মো. জিল্লুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সেই সঙ্গে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে প্রচণ্ড স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া যাতায়াতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই রুট পারি দিতে আধাঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে।
ফেরি সেক্টরের এজিএম (মেরিন) আব্দুস সোবহান জানান, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার নদীপথে মাত্রাতিরিক্ত স্রোতের কারণে ফেরিঘাটে নোঙর করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেখানকার ছয়টি ঘাটের দুটি ঘাট স্রোতের তোড়ে ভেঙে গেছে।
এদিকে আরিচা ফেরি সেক্টরে এজিএম (ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) মো. জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া ঘাটের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে স্রোতের গতিও মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। নির্ধারিত চ্যানেলে ফেরিগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফেরিগুলোকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এ কারণে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। এতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে বলে জানান তিনি।