নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় দেশের দুটি উপজেলা ঢাকার সাভার ও নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে পরিবেশবান্ধব কৌশলে নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে মডেল ইউনিয়ন স্থাপন বাস্তবায়নের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দেড়শ’ কৃষক। এ প্রকল্পের আওতায় চাষ করা হচ্ছে- ফুলকপি, বেগুন, শিম, টমেটো, শসা, কাকরোল, করল্লা, ধুন্দুল, কুমড়া, লাল শাকসহ অন্যান্য সবজি। এতে ফসলের পোকা দমনে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, লিউর, হলুদ ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক।
সম্প্রতি সরেজমিন নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজির সঠিক মূল্যপ্রাপ্তি ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ভাটের চর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী, হামিদা বেগম ও আবুল কাশেম বলেন, কপি, বেগুন এবং লাল শাক সবজি জাতীয় সবকিছুই আমাদের এখানে আছে। আমরা সব জাতের সবজি চাষ করি। আমরা চাই বিষমুক্ত সবজি। কারণ বিষ প্রয়োগ করলে সবার ক্ষতি। বিষমুক্ত সবজি এবং নিরাপদ খাদ্য আমরা যাতে উৎপাদন করতে পারি, সে চেষ্টা করছি। এখানে আমরা একশ’ কৃষক মিলে চেষ্টা করছি এই প্রজেক্টে। আমারা চাই বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ সবজি খেতে পারে। সবার যাতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বিষমুক্ত সবজির দামও আমরা বেশি পাবো।
এ প্রকল্পের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করাসহ ২৫ নভেম্বর সোমবার সরেজমিন নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বিষযুক্ত খাদ্যের ফলে মানুষ নানা ধরনের জটিল রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এখন মানুষ সচেতন হচ্ছে। যে কারণে কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজির সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে। উৎপাদিত নিরাপদ সবজি বাজারজাতকরণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত মার্কেট থাকবে। এসব মার্কেটের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’