কৃষকদের আকৃষ্ট করছে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন পদ্ধতি

01নরসিংদীর বেলাবতে শুরু হয়েছে পরিবেশবান্ধব কৌশলে নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প। এতে কীটনাশকের পরিবর্তে পোকা দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। কীটনাশক ব্যয় না থাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষে আকৃষ্ট হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এর ফলে কমবে সবজির উৎপাদন খরচ, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ সবজির ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশাবাদী তারা।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় দেশের দুটি উপজেলা ঢাকার সাভার ও নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে পরিবেশবান্ধব কৌশলে নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে মডেল ইউনিয়ন স্থাপন বাস্তবায়নের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দেড়শ’ কৃষক। এ প্রকল্পের আওতায় চাষ করা হচ্ছে- ফুলকপি, বেগুন, শিম, টমেটো, শসা, কাকরোল, করল্লা, ধুন্দুল, কুমড়া, লাল শাকসহ অন্যান্য সবজি। এতে ফসলের পোকা দমনে স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, লিউর, হলুদ ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক।02
সম্প্রতি সরেজমিন নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজির সঠিক মূল্যপ্রাপ্তি ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ভাটের চর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী, হামিদা বেগম ও আবুল কাশেম বলেন, কপি, বেগুন এবং লাল শাক সবজি জাতীয় সবকিছুই আমাদের এখানে আছে। আমরা সব জাতের সবজি চাষ করি। আমরা চাই বিষমুক্ত সবজি। কারণ বিষ প্রয়োগ করলে সবার ক্ষতি। বিষমুক্ত সবজি এবং নিরাপদ খাদ্য আমরা যাতে উৎপাদন করতে পারি, সে চেষ্টা করছি। এখানে আমরা একশ’ কৃষক মিলে চেষ্টা করছি এই প্রজেক্টে। আমারা চাই বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ সবজি খেতে পারে। সবার যাতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বিষমুক্ত সবজির দামও আমরা বেশি পাবো।
03বেলাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর রউফ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিরাপদ কৃষি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে নারায়ণপুর ইউনিয়নের তিনটি ব্লকে কৃষক দল গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় ১৫০ জন কৃষক ৩০ হেক্টর জমিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন।’
04কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামার বাড়ি, ঢাকার সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চন্ডি দাস কুন্ডু বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি গ্রামকে নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করাসহ একটি গ্রামকে নিরাপদ ফল গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই আমাদের মোটামুটি বলা চলে সেই সিলেকশন হয়ে গেছে। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা উপজেলার দুটি করে গ্রামকে নিরাপদ গ্রাম হিসেবে দেখবো। সেখানে আমরা এই রবি মৌসুমে যেসব ফসল হয় সেগুলো চাষ করতে বলেছি। দেশের দুটি পাইলট প্রকল্পের মধ্যে নরসিংদীর নারায়ণপুর ইউনিয়ন একটি।’
এ প্রকল্পের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করাসহ ২৫ নভেম্বর সোমবার সরেজমিন নিরাপদ সবজি উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।05
এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বিষযুক্ত খাদ্যের ফলে মানুষ নানা ধরনের জটিল রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এখন মানুষ সচেতন হচ্ছে। যে কারণে কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজির সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে। উৎপাদিত নিরাপদ সবজি বাজারজাতকরণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত মার্কেট থাকবে। এসব মার্কেটের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’