লাক্সারি ফ্যান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিহত শ্রমিকের বাবার মামলা

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুরের লাক্সারি ফ্যান কারখানাগাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের কেশোরিতা এলাকার লাক্সারি স্মার্ট এনার্জি সেভিং ফ্যান লিমিটেড কারখানা অগ্নিকাণ্ডে নিহত এক শ্রমিকের বাবা মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিহত কারখানা শ্রমিক রাশেদুল ইসলামের বাবা ও শ্রীপুর উপজেলার মারতা গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন কারখানার পাঁচ মালিক ও এক ব্যবস্থাপককে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হাসান ঢালীর নাম ছাড়া বাকিদের নাম তিনি জানাতে পারেননি।

এদিকে গত তিন বছর ধরে পুরোদমে উৎপাদন কাজ চালিয়ে গেলেও কারখানাটির কোনও অনুমোদন ছিল না বলে জানা গেছে। এছাড়া কারখানাটির কোনও ফায়ার লাইসেন্স এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে কারখানা পরিদর্শনে শেষে এসব তথ্য জানান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় তথা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের কোনও অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দোতলার ওপরে টিনের শেড নির্মাণ করে ফ্যান তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়। কারখানা স্থাপনের অনুমতি নিতে আবেদনও করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে তৃতীয় তলায় দরজার কাছে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হলেও নিচে নামার জন্য সিঁড়ি ছিল একটি, বিকল্প কোনও পথ ছিল না। তৃতীয় তলায় থাকা ১৯ জনের মধ্যে ৯ জন ঝুঁকি নিয়ে নিচে নামতে সক্ষম হলেও বাকি ১০ শ্রমিক নিহত হন।

কারখানাটি পরিদর্শন করেন সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মীরাশ্রম আদালতে নিয়মানুযায়ী কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, কারখানা মালিকের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের আবেদন করতে হবে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন অর রশিদ জানান, কারখানাটির কোনও ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।

লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালী বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তারা যে উৎসব বোনাস ও বেতন পেতেন তাদের পোষ্যদের আজীবন তার সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ফায়ার লাইসেন্স এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।