এদিকে গত তিন বছর ধরে পুরোদমে উৎপাদন কাজ চালিয়ে গেলেও কারখানাটির কোনও অনুমোদন ছিল না বলে জানা গেছে। এছাড়া কারখানাটির কোনও ফায়ার লাইসেন্স এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকালে কারখানা পরিদর্শনে শেষে এসব তথ্য জানান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় তথা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের কোনও অনুমোদন ছাড়াই কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে দোতলার ওপরে টিনের শেড নির্মাণ করে ফ্যান তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়। কারখানা স্থাপনের অনুমতি নিতে আবেদনও করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে তৃতীয় তলায় দরজার কাছে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হলেও নিচে নামার জন্য সিঁড়ি ছিল একটি, বিকল্প কোনও পথ ছিল না। তৃতীয় তলায় থাকা ১৯ জনের মধ্যে ৯ জন ঝুঁকি নিয়ে নিচে নামতে সক্ষম হলেও বাকি ১০ শ্রমিক নিহত হন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন অর রশিদ জানান, কারখানাটির কোনও ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।
লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালী বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তারা যে উৎসব বোনাস ও বেতন পেতেন তাদের পোষ্যদের আজীবন তার সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ফায়ার লাইসেন্স এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।