সরেজমিনে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের বয়োবৃদ্ধ দয়াল তালুকদার (৮০) তার বিধবা পোষাকশ্রমিক মেয়ের জন্য একটি ঘর নির্মাণে টাকা দিয়েছিলেন লোকমানকে। কিন্তু মেয়ের ঘর এখনও নির্মাণ করা হয়নি। ভাবতেও পারেননি শেষ বয়সে এভাবে প্রতারিত হবেন তিনি। তাকে কেবল আংশিক ভিটে ও কয়েকটি পিলার তুলে দিয়েছিল লোকমান। দয়ালের মতো ৮০ বছর বয়সী এংরাজের মাও ঘর পাননি। তিনিও টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। শুধু দয়াল কিংবা এংরাজের মা নন, গ্রামের কেউই বাদ পড়েননি তার প্রতারণার হাত থেকে।
দয়াল তালুকদার ও এংরাজের মা জানান, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে লোকমান। সে তাদের ১৫ দিনের মধ্যে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক খোকন ঘটনাটি প্রতারণা উল্লেখ করে বলেন, এলাকার লোকজনকে বাধা দেওয়া হলেও তারা আমার কথা শুনেনি। যারা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে, তাদের এড়িয়ে চলেছে ঘর প্রত্যাশিরা।
মধ্যবয়সী নারী ফাতেমা আক্তার জানান, তার একটি ঘরের প্রয়োজন ছিল। লোকমানের লোভে পড়ে ঋণ করে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন তাকে। টাকা দেওয়ার আগেই সে বাড়িতে ৫০০ ইট পাঠিয়ে দেয়। এসব দেখে তার প্রতি আরও বিশ্বাস বেড়ে যায় লোকজনের। আর এভাবেই দেখাদেখি প্রতারণার ফাঁদে ধরা দেয় স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, লোকমান একা নয়, তার প্রতারণার কাজে স্থানীয় কিছু লোককেও সে ব্যবহার করে। মুক্তার হোসেন তাদেরই একজন। তিনি বলেন, আমি মানুষের চাপে এখন বাড়িতে থাকতে পারি না। আমার আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে নিজের গ্রাম এমনকি আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। এভাবে মোট ১০৬ জনের কাছ থেকে ঘরের জন্য টাকা নিয়ে লোকমানকে দিয়েছি। প্রায় ১৫ লাখ টাকা আমি নিজের হাতে তাকে দিয়েছি। অবস্থা এমন হয়েছে যে আমি পালিয়ে থেকে বাঁচতে পারছি না।
অভিযুক্ত সেই লোকমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রীকে পাওয়া গেলেও তিনি সাংবাদিক দেখে দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজার বন্ধ করে দেন। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লোকমানের ফোন নম্বরে ফোন দিলেও সে ফোন ধরেনি।