এর আগে রবিবার বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে সন্ধ্যা থেকে ইউএমসি জুটমিলের শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। অস্থায়ী মঞ্চে সন্ধ্যা থেকে কাঁথা বালিশ নিয়ে অনশনে বসেন শ্রমিকরা। পরে রাত ১০টায় মিলের দ্বিতীয় শিফট শেষ হলে প্রায় সকল শ্রমিক অনশনে যোগ দেন।
এসময় শ্রমিকরা বলেন, বড় কর্মকর্তারা দুর্নীতি করে জুটমিলগুলোর কোটি কোটি টাকা লোকসান করেন। তারা বেতনভাতা পেলেও সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয় না। শ্রমিকরা উৎপাদন ঠিকভাবে করলেও পেটের ভাত জোটে না। তাই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য এই আমরণ অনশন করতে হচ্ছে।
শ্রমিকরা আরও জানান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী একমাস সময় চেয়েছেন, কিন্তু দাবি বাস্তবায়নের কোনও আশা দেখাননি। তাই ফের আমরণ অনশনে বসেছেন তারা। দাবি পূরণের আগ পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশন কর্মসূচি ১৩ ডিসেম্বর স্থগিত করেন পাটকল শ্রমিকরা। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। দাবি পূরণে শ্রমিকরা শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরইমধ্যে সিবিএ-ননসিবিএ নেতারা শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজেএমসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিন দফায় বৈঠক করেন। কিন্তু কোনও সমাধানে না আসায় শ্রমমন্ত্রী আরও এক মাসের সময় চেয়েছেন। এই এক মাস পরও মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হবে কিনা তা অনিশ্চিত। তাই আবারও আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা।