শ্রীপুরে আট দিনে ২৮ গরু চুরি, আতঙ্কিত কৃষকরা

গোয়াল ঘর থেকে চুরি গেছে গরুগাজীপুরের শ্রীপুরে গত আট দিনে ২৮টি গরু চুরি হয়েছে। ৭-১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলার মাওনা, ধনুয়া ও গাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসব গরু চুরি হয়। চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তিন চোরকে গ্রেফতার করলেও চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করতে পারেনি।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন ভূঁইয়া জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের সদস্য।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়াতখারচালা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাছুরসহ গাভি চুরি হয়। যার বাজার মূল্য দেড় লাখ টাকা। একই এলাকার গোলাম মোস্তফার দু’টি ষাঁড় চুরি হয়। যার বাজারদর এক লাখ টাকা।

গোয়াল ঘর থেকে চুরি গেছে গরুআনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোয়াল ঘরে তালা দিয়ে ঘুমাতে যান। সকালে গরু বের করতে গিয়ে দেখতে পায় তালা কাটা এবং গরু নেই। পরে তার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির কৃষক মোস্তফা দৌড়ে এসে বলে তার গোয়াল ঘরের তালা কেটে চোর গরু নিয়ে গেছে।

রবিবার (১২ জানুয়ারি) মধ্য রাতে উপজেলার সিংগারদিঘি গ্রামের কৃষক ও মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের ১০টি গরু চুরি হয়েছে।

তিনি জানান, রাতে গোয়াল ঘরে তালা দিয়ে ঘুমাতে যান। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে কাজের ছেলে তাকে জানান গোয়ালে একটিও গরুও নেই। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা হবে।

গোয়াল ঘর থেকে চুরি গেছে গরুএকই গ্রামের কৃষক হারুন ফরাজি জানান, ১০ জানুয়ারি কৃষক হারুন ফরাজি ও তার শ্বশুরের চারটি গরু চুরি হয়। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।      

গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের ছাবেদ আলী মাতবর জানান, ৭ জানুয়ারি তার গোয়াল ঘর থেকে ৭টি গরু চুরি হয়ে গেছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা।   

একই রাতে দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ৩টি গরু চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গোয়াল ঘর থেকে চুরি গেছে গরু

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, গরু চোর ধরতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখছে। এসব ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার রাতে তিন গরু চোরকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গরু চুরির কথা স্বীকার করেছে।