মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে দ্বিধায় রূপগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা

মুজিববর্ষমুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পালন নিয়ে দ্বিধায় আছেন রূপগঞ্জসহ জেলার মাধ্যমিক  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও সমাবেশ, কেককাটা, র‌্যালিসহ সব অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। শুধু প্রতিটি বিদ্যালয়ের মাঠ বা আশেপাশে একশ করে বৃক্ষরোপণের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে। আর এ কর্মসূচিতে ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীর  অংশগ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি উপজেলায় মুজিববর্ষ  উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত  অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের আশেপাশের যেসব স্কুল আছে তাদের অংশ নিতে বলা  হয়েছে। এ নিয়েই দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রূপগঞ্জের সহিতুনেছা স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক বলেন,  ‘উপজেলা থেকে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অংশগ্রহণ করত। সারাদেশে করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রীদের  নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগদান নিয়ে ভীত শিক্ষকরা।’

এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঠাকুর দাস কর বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি স্কুল হওয়ায় সব অনুষ্ঠানে আমাদের স্কুলের ছাত্রীরা অংশ নেয়। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানটিও আগে থেকে নিধারির্ত ছিল। উপজেলা পরিষদ থেকে আমাদের ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বলা হয়েছিল। করোনা আতঙ্কে শিক্ষ মন্ত্রণালয় সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান সীমিত করেছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার অফিস থেকে ছাত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য কোনও নির্দেশনা বা চাপ নেই। কোনও শিক্ষার্থী চাইলে  অনুষ্ঠানে যেতে পারে। স্কুল বন্ধ ঘোষণার আগে থেকে এই অনুষ্ঠানটি  সেট থাকায় আমরা দ্বিধায় আছি উপজেলায় কত শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাবো।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন,  ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা চত্বরে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান করা হবে। সরকারিভাবে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান করার কথা বলা হয়েছে। আমার সেভাবেই অনুষ্ঠান করবো। উপজেলার আশেপাশে যেসব স্কুলগুলো নিয়মিত অংশ নেয় তাদের বলেছি যোগ দিতে। উপজেলায় কোনও সমাবেশ করা হবে না। ছাত্রছাত্রী নিয়ে আসতে হবে এমন কোনও  চাপ কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে না। এই দিনটিও কিন্তু আমরা আর পাবো না। এটিও কিন্তু আমরাদের মনে রাখতে হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষ অফিসার শরীফুল ইসলামের সঙ্গে কথা যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।