কিশোরগঞ্জে ১১‌ চিকিৎসকসহ করোনা আক্রান্ত ৫২

কিশোরগঞ্জকিশোরগঞ্জে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় চার জন চিকিৎসকসহ আরও ১৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ জন চিকিৎসক ও দুজন নার্স রয়েছেন। সর্বশেষ আক্রান্ত চার চিকিৎসক তাড়াইল, কটিয়াদী, বাজিতপুর ও ভৈরব উপজেলায় কর্মরত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য জানান।

২৯ জনের নমুনা পাঠিয়ে ১৮ জনের পজিটিভ আসায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলাজুড়ে। স্থানীয়দের দাবি, সীমিতহারে পরীক্ষা না করে, পরীক্ষার সংখ্যা দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন। তবে স্বাস্থ্যবিভাগ আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে অবস্থানসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তিন জন চিকিৎসক ও দুজন নার্সসহ ১১ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুজন চিকিৎসক ও একজন নার্স; তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক ও করিমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নার্সের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়।

এর আগে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন জন চিকিৎসক ও কিশোরগঞ্জ সদরে একজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হন। এ কারণে ১৪ এপ্রিল থেকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সিভিল সার্জন জানান, বৃহস্পতিবার যে ২৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (আইপিএইচ) এ পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৮ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। এই ১৮ জনের মধ্যে বাজিতপুরের দুজন, কুলিয়ারচরের তিন জন, তাড়াইলের দুজন, ভৈরবের পাঁচ জন, মিঠামইনের তিন জন, কটিয়াদীর একজন, নিকলীর একজন ও অষ্টগ্রামের একজন রয়েছেন।

উপজেলাওয়ারি হিসাবে এ পর্যন্ত করিমগঞ্জ উপজেলায় আট জন, ভৈরবে ১০ জন, ইটনায় পাঁচ জন, বাজিতপুরে দুজন, সদর উপজেলায় চার জন, পাকুন্দিয়ায় তিন জন, তাড়াইলে ছয় জন, কুলিয়ারচরে ছয় জন, কটিয়াদীতে দুজন, মিঠামইনে তিন জন, অষ্টগ্রামে একজন, হোসেনপুরে একজন ও নিকলীতে একজন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ জেলার ১৩টি উপজেলাতেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলো।