‘বিপদের সময় ছাত্রলীগ এগিয়ে আসায় তাদেরকে ধন্যবাদ’

ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা


গোপালগঞ্জের করপাড়া গ্রামের কৃষক মিজান মোল্লা। শ্রমিক সংকটের কারণে ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার জমির ধান কেটে দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ধান কেটে দিচ্ছেন। বিপদের সময় ছাত্রলীগ এগিয়ে আসায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’


শুধু মিজান মোল্লা নয়, শ্রমিক সংকের কারণে গোপালগঞ্জের অনেক কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম ও করপাড়া এলাকার ৩ কৃষকের ধান কেটে দিলো উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে ব্যাপকভাবে ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় হতদরিদ্র ও বর্গা চাষিদের ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ও সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রলীগ। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা রনি হোসেন কালুর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি টিম বেদগ্রামের অম্বরেশ ঢালী ও মারুফ মোল্লা নামে দুই কৃষকের একবিঘা জমির ধান কেটে দেয়।

ধান কেটে দিচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
এসময় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের শিমিয়োন হাজরা জয়, মোল্লা রাফিকুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন আরাফত জয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিউটন মোল্যার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের আরেকটি টিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মিজান মোল্লার ১০ কাঠা জমির ধান কেটে দেয়। এসময় কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোল্লা রিয়াদুল ইসলাম, রিফাত সরদার, ছাত্রলীগ নেতা পিয়ার খান, করপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বেদগ্রামের কৃষক অম্বরেশ ঢালী ও মারুফ মোল্লা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন,  ধান কাটা নিয়ে কৃষক সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসায় কৃষক আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। আমরা আশা করবো এভাবে পুরো ধান কাটা মৌসুমে কৃষকের পাশে থাকবে তারা।

করপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব মোল্লা জানিয়েছেন, যেসব কৃষক ধান কাটতে পারবেন না আমরা তাদের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেবো।

বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিউটন মোল্লা বলেছেন, এটি তাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসব দরিদ্র কৃষক শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারবেন না তাদের ধান তারা কেটে ঘরে তুলে দেবেন।
সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা রনি হোসেন কালু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগ ২১ ইউনিয়নে কৃষকের ধান কাটা টিম গঠন করেছে। তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ইউনিয়নে বিনা পারিশ্রমিকে ধান কেটে দিচ্ছেন। তাদের নেতা কর্মীরা জালালাবাদ, দূর্গাপুর ও উরফি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। এ কাজ অব্যাহত থাকবে।