করোনা ঝুঁকির মধ্যেই ঢাকামুখী হাজারো কর্মজীবী মানুষ

ফেরি থেকে নামা ঢাকামুখী মানুষের স্রোতবৈরী আবহাওয়া আর মরণঘাতী করোনাভাইরাসের ঝুঁকিসহ নানা ঝক্কি-ঝামেলা মাথায় নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। সবাই জানেন গণপরিবহন বন্ধ, তারপরও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে শুক্রবারও (১ মে)   ঢাকামুখী হাজারো মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা।

পাটুরিয়া ঘাটে কথা হয় ঢাকামুখী বেশ কয়েকজন কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে। সবার একই কথা—বউ, পোলাপান আর নিজের পেটের তাগিদে মহামারির মধ্যে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে তাদের।

পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষমাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থেকে আসা যুবক আশরাফুল আলম বলেন, 'সেই কাকডাকা ভোরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি। একটি সিএনজিতে করে আমিসহ ৫ জন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসি। যাবো কর্মস্থল নরসিংদীতে। কোনও উপায় নেই— গার্মেন্টসের ডিজিএম মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠিয়েছেন, “শনিবারের মধ্যে অফিসে যোগ না দিলে কর্তৃপক্ষ রাখবেন না।" এরপর কী করে ঘরে থাকি? তাই করোনার মতো মরণঘাতী জীবাণুর ঝুঁকি আর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে।'

শুক্রবার সকালে পাটুরিয়া ঘাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, একটি ফেরি কূলে ভিড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ হুড়মুড় করে নামছেন। তাদের চোখে-মুখে একটাই শঙ্কা—যানবাহন পাবো তো! তবে অন্য দিনের তুলনায় আজ পরিবহনের আনাগোনা একটু বেশি লক্ষ করা গেছে। 

পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষঘাটে কথা হয় সানজিদা খানম নামের এক নারী কর্মজীবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'ভাই করোনা-টরোনার টেনশন মাথায় নেই। আগে চাকরি বাঁচাতে হবে। আমার মোবাইল ফোনে বার্তা এসেছে, শনিবার সকালের শিফটে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। না হলে আমার স্থলে অন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হবে।'

এদিকে, গণপরিবহন না থাকায় ঘাটে আসা কর্মস্থলমুখী মানুষ রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন। যেখানে গণপরিবহনে পাটুরিয়া থেকে নবীনগর পর্যন্ত ভাড়া ৬০ থেকে ৯০ টাকা, সেখানে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজিতে জনপ্রতি ৫শ' টাকা গুনতে হচ্ছে। মোটরসাইকেলে দুই জনের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা করে।

 পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষবিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ফেরি সেক্টরের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন জানান, দুটি রো-রো (বড় সাইজের ফেরি)-সহ চারটি ফেরি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে চলাচল করছে। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আর অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হলেও গার্মেন্টস খোলা থাকায় হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ফেরিযোগে পার হচ্ছেন। তাদের জন্য আলাদা ফেরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাটুরিয়া ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলজার জানান, দৌলতদিয়া থেকে ফেরি পার হয়ে হাজারো মানুষ পাটুরিয়া ঘাটে ভিড় জমাচ্ছেন। রীতিমতো একটি অমানবিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মজীবী এসব মানুষের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তাদের মনে করোনার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে চাকরি হারানোর ভয়। এজন্য তারা বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল চেপে ঢাকায় যাচ্ছে। সকালের দিকে বৃষ্টির মধ্যে লুকিয়ে কয়েকটি গণপরিবহন চললেও নজরদারি বাড়ানোর কারণে এখন তা বন্ধ আছে।