সুকান্তের পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার সুবাদে কবির পরিবার কলকাতায়ই থাকতো। দীর্ঘদিন কবির পরিবার সেখানে অবস্থান করায় তার পৈত্রিক ভিটাটি দখল হয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৯ বছর দখল থাকার পরে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবির বাড়ি দখল মুক্ত হয়। দখল মুক্ত হওয়ার পরে কবির পৈত্রিক ভিটাটি দীর্ঘদিন শূণ্য অবস্থায় পড়েছিল। বর্তমানে জেলা পরিষদ কবির পৈত্রিক ভিটায় একটি অডিটেরিয়াম ও লাইব্রেরি স্থাপন করেছে। এখানে কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি মেলার আয়োজন করা হয়।
কবি সুকান্ত স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক কর্মকার বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরতে হলে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কবির জন্ম এবং মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা উচিত। শুধু বছরে একটি মেলা করে জাতির কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরা সম্ভব নয়। কবিকে বাঙালি জাতির কাছে তুলে ধরতে হলে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’
কবি সুকান্ত স্মৃতি সংসদের সভাপতি আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমরা এই বছর বড় পরিসরে কবি সুকান্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারবো না। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কবির প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা দিয়ে সম্মান জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কালীঘাটের মহিমা হালদার স্ট্রিটে মামা বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল- তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। কবির বেশিরভাগ কবিতায় অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।