বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জেলার দৌলতপুর, হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলার বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবিলত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও এখনও অনেকেই ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার তিনটি উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকট রয়েছে। তলিয়ে গেছে ওই উপজেলাগুলোর বেশির ভাগ রাস্তা ঘাট।
জেলার দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামের করিম উদ্দিন বলেন, ‘শুনেছি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট কয়েকবার গিয়েও কোনও ত্রাণ পাইনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ তাদের পরিচিত একই ব্যক্তিকেই বার বার ত্রাণ দিচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরকাটারি এলাকার এক স্কুল শিক্ষক বলেন, ‘চরকাটারি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। অধিকাংশ ব্যক্তির বাড়িতেই এখন বন্যার পানি। টাকা থাকলেও খাবার পাওয়া কঠিন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনা অপ্রতুল।’
হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মার পানিতে নাকাল উপজেলার অধিকাংশ এলাকা। পদ্মা নদীর পানি উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করেছে প্রায় সপ্তাহ খানেক। বন্যার পানিতে ক্ষতি হয়েছে এলাকার বহু রাস্তাঘাট। খাদ্য সংকটে রয়েছে উপজেলার চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।’
এদিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গত দুই দিনে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক রাস্তাঘাট।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার ২৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। আর পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে সাত হাজারেরও বেশি মানুষ। আর ২২ হাজার হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার জনসাধারণের জন্য ১৩০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের জন্য জেলায় ১০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলার বেশ কিছু পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।’