মাল্টা চাষ করে বেশ ভালোই ছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শাহাজান মোল্যা। চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের এই মাল্টা চাষি দেড় হাজার মাল্টা গাছ লাগিয়ে গত তিন বছর বেশ ভালোই আয় করেছিলেন। কিন্তু এবারের বন্যায় তার মাল্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ২০১৬ সালে নিজের তিন বিঘা জমিতে মাল্টার চাষ শুরু করেন শাহাজান। ফলন ভালো হওয়ায় লাভের মুখ দেখেছিলেন। তার দেখাদেখি এলাকার আরও অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। এ বছর গাছে প্রচুর মাল্টা ধরেছিল। আশা ছিল এবারে তার আয়ের পরিমাণ গতবারের থেকে দ্বিগুণ হবে। কিন্তু সব আশায় জল ঢেলে দিয়েছে বন্যার পানি। গাছের গোড়ায় বন্যার পানি জমে থাকায় অর্ধেকেরও বেশি গাছ মরে গেছে। গাছ ভরা মাল্টা ঝরে পড়ে গেছে। যেগুলো গাছে আছে সেগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জানান, এই বাগানের মাল্টা খুব বড় এবং সুস্বাদু। বন্যার বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা আগে এই ক্ষেত থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে গেছি।
শাহাজান বলেন, মাল্টা চাষ করে বেশ ভালোই লাভ হয়েছিল। কিন্তু ক্ষেত্রে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় পেকে যাওয়া ফলগুলো ঝরে পড়ে গেছে। মরেও গেছে অনেক গাছ। ব্যাপক ক্ষতির হয়েছে। সরকার বা কৃষি বিভাগ তার দিকে একটু হাত বাড়িয়ে দিলে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় জানান, এবার বন্যায় জেলার ফলের বাগান বিশেষ করে মাল্টা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলের বাগান তুলনামূলক উঁচু জায়গায় চাষ করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষকদেরকে। ক্ষতিগ্রস্ত মাল্টা চাষিকে সব ধরনের সহয়োগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।