বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, এ পর্যন্ত এই ঘটনায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির ফতুল্লা অঞ্চলের চার প্রকৌশলীসহ আট জন এবং বিদুৎ বিভাগের দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্যাসের লিকেজ মেরামতের জন্য মসজিদ কমিটির কাছে ৫০ হাজার টাকা যে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল তার প্রমাণ মিলেছে সিআইডির কাছে। তিতাসের কোন কর্মকর্তা ঘুষ চেয়েছিলেন তাকে শনাক্ত করা গেছে। অচিরেই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, মিটার রিডারের কাজ হচ্ছে প্রতি মাসে মসজিদে সরেজমিন গিয়ে বিদ্যুৎতের মিটার দেখে সঠিক রিডিং নিয়ে এসে বিল করা। তিনি যদি প্রতি মাসে মসজিদে যেতেন তাহলে মসজিদে যে আরেকটি অবৈধ সংযোগ রয়েছে সেটি তার চোখে পড়তো। অবৈধ সংযোগের বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করতেন। কিন্তু তিনি প্রতি মাসে না গিয়ে মিটার রিডিং সংগ্রহ করে বিল করতেন। তিনি নিয়মিত পরিদর্শন করলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হতো না। এতে প্রমাণিত হয় তার গাফিলতি ছিল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মসজিদ পরিচালনার সঙ্গে কমিটির যে সদস্যরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল তাদের গাফিলতির প্রমাণ সিআইডির হাতে এসেছে। অচিরেই তাদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মেম্বার অভিযাগ করেছেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিকেজ মেরামত করার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছেন। কিন্তু মসজিদ কমিটির লোকজন সেই কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি। তবে সিআইডি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর বাবুল হোসেন মোটামুটি নিশ্চিত হতে পেরেছেন তিতাসের কোন কর্মকর্তা মসজিদ কমিটির কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন। সেই কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সিআইডি।
সিআইডির পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ আরও জানান, তল্লা মসিজদের বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই দোষীদের চিহ্নিত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মসজিদ কমিটি, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩৫ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে ১০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লষ্ট আরও দুই জনের গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। তাদের খুঁজছে সিআইডি পুলিশ। এছাড়া যাদের অবহেলার কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের বেশির ভাগই চিহ্নিত হয়েছেন। তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
তিনি বলেন, মসজিদ কমিটি, তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎসহ মোট ৩০ জনের বেশি লোককে আসামি করে প্রস্তুত করা হচ্ছে সিআইডির অভিযোগপত্র।
মামাল তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর বাবুল হোসেন জানান, আটক মিটার রিডার আরিফুল রহমানকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় আর কার কার গাফিলতি পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, আটক আরিফুল রহমান বরিশালের পটুয়াখালী ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।