সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে রেলওয়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে রেলওয়ের সম্পত্তি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকার রেলওয়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক  সামসুল আলম কাঠারাবো এলাকায় প্রায় ২ বিঘা জমি  বালু ফেলে এই জমি দখল করেছেন। এর আগেও তালতলা এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগ তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।  
জানা গেছে, জামপুর ইউনিয়নের কাঠারাবো এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ২ বিঘা সম্পত্তি সামসুল আলমের নেতৃত্বে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছে কাঠারাবো এলাকায় কামাল হোসেন, সাগর চৌধুরী, আব্দুর নূর, আল আমিন, মিঠু, হাবিব, গোলজার, তালতলার রমজান ও শামীমসহ ১৫-২০ জনের একটি সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, তালতলা এলাকায় সামসুলের নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে তিন বিঘা সম্পত্তি দখল করে আধা পাকা মার্কেট নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। এখান থেকে প্রতি মাসে তার প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করছেন। এজন্যই সিন্ডিকেট করে রেলওয়ের সম্পত্তি দখলে নেমেছেন এ যুবলীগ নেতা। সন্ধ্যা হলে তালতলা বাস স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজ রমজানসহ ৫-৭ জনের একটি দল লাঠিসোটা হাতে বালু ভরাট এলাকা পাহারায় বসেন। কেউ বাধা দিলে তাদের মারধর করে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।   
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামসুল আলমের এক সময়ে কিছুই ছিল না। ইউনিয়ন যুবলীগের পদ পাওয়ার পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। এখন তার বিশাল চাঁদাবাজি, দখলবাজির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।  এ সিন্ডিকেটকে ব্যবহার করে বর্তমানে সে এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।  

বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে রেলওয়ের সম্পত্তি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দখলকৃত সম্পত্তিতে পাকা, আধা পাকা দোকানঘর নির্মাণ ও প্লট করে জমি বিক্রি করছে। এসব অবৈধ দখল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একাধিক বার অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। রেলওয়ে ইজারায় সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে, রেলওয়ের সম্পত্তি কোনও শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এ সম্পত্তিতে কোনও আধা পাকা বা পাকা ভবন নির্মাণ করা যাবে না। লিজ নেওয়ার পর শুধু কৃষি কাজে এ জমি ব্যবহার করতে হবে।  
ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন,  ‘এ দখলের সঙ্গে আমি জড়িত না। আব্দুর নূর, আল আমিন, গোলজার হাবিব ও মিঠু এ জমি দখল করে বালু ভরাট করছে।’ 
রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের স্টেট অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি কেউ অবৈধভাবে জমি দখল করে থাকে তাহলে দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে উচ্ছেদ করা হবে।’

সোনারগাঁও থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান করতে চাইলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।’
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি কাউকে দখল করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’