গাজীপুরের টঙ্গীতে বনমালা শান্তিবাগ এলাকায় এইচ এম মেহেরের বসতবাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই জন আহত হয়েছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী জোনের সহকারী কমিশনার পিযুষ দে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আহতরা হলেন বাড়ির মালিক এইচ এম মেহের (৫০) ও তার ছেলে জগলুল হায়দার (২১)। তারা টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত এইচ এম মেহের বলেন, ‘বুধবার রাতে আমার ছেলে জগলুলকে মুঠোফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় রহমত নামে এক কিশোর। পরে তারা আমার ছেলেকে বনমালা রেলক্রসিং এলাকায় নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে রেললাইনেও ওপর ফেলে যায় তারা। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসি। পরে ফেসবুকে রহমতের নাম উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেয় জগলুল। এর জের ধরে বিকালে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সাব্বির ওরফে কেবিডি ধারালো চাকু (সুইচ গিয়ার) নিয়ে বাসার সামনে এসে আমার ছেলের ওপর ফের হামলা চালায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা সাব্বিরকে সুইচ গিয়ারসহ আটক করে। খবর পেয়ে দত্তপাড়া এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা সজল সরকারের নেতৃত্বে সাব্বির ওরফে কেবিডি, আলী, শৈশব, লালু, রহমত, আকতার, মিশুসহ তাদের ২৫-৩০ জনের একদল কিশোর ও যুবক ধারালো অস্ত্রসহ তার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা, কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা স্থানীয় দোকানদারদের এ বিষয়ে মুখ না খোলারও হুমকি দেয়।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী জোনের সহকারী কমিশনার পিযুষ দে জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।