টঙ্গীতে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় টঙ্গী মিলগেট এলাকা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতার দেলোয়ার (৪০) ও জেসমিন (৩৫) দম্পতি টঙ্গী মিল গেট এলাকায় আবু শাকেরের বাড়িতে ভাড়া থেকে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন।
নির্যাতনের শিকার শিশু ফারজানা আক্তার মিম (৯) নোয়াখালির সোনাইমুড়ি উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের আনিসুর রহমানের মেয়ে। শিশুটির বাবা বলেন, ‘দারিদ্য এবং স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে প্রায় দেড় বছর আগে আমার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে মেয়েকে ওই বাসায় কাজ করার জন্য দিই। বাসার কাজের পাশাপাশি ওই দম্পত্তি আমার মেয়ের ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তারা লেখাপড়া না করিয়ে বাসার যাবতীয় সাংসারিক কাজ করাতো। কাজ করতে গিয়ে ছোটখাটো কোনও সমস্যা হলেই তারা আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করতো। মেয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা বিভিন্ন অযুহাতে কথা বলতে দিতো না। নির্যাতনে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে ঢাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে ঈদের পরদিন তারা আমার গ্রামের বাড়ির পাশে দুঃসম্পর্কের আত্মীয় সালাহ উদ্দিনের বাড়িতে মেয়েকে রেখে চলে যায়। সেখানে গিয়ে মেয়েকে পাওয়ার পর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন দেখি।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমার মেয়েকে মেরে মাথা ফাটিয়েছে, কোমরের পাঁজরের হাড় ও মুখের দাঁত ভেঙে দিয়েছে। গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে নির্যাতন করেছে বলে মেয়ে জানায়।’
এসআই উত্তম কুমার জানান, ভিকটিমকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী মিলগেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দেলোয়ার-জেসমিন দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু গৃহকর্মীর শরীরে নির্যাতনের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলম জানান, শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত আসামিদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।