নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরে হোন্ডা বাহিনীর আবির্ভাব হয়েছে। হোন্ডা নিয়ে ২০-২৫ জন শহরে ঘুরে বেড়ায়। প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, এই হোন্ডা বাহিনী কারা? যারা রাতের আঁধারে একসঙ্গে ছুটে বেড়ায়? নারায়ণগঞ্জ শহরকে আবার খুনের শহরে পরিণত করতে চায় তারা? আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন প্রতিবাদ করবো। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, এই হোন্ডা বাহিনীকে নাড়া দেন, না হয় জনতা পিটিয়ে মারবে।
রবিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর ইসদাইর এলাকায় মাওলানা আলী (রা.) সিটি জামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ক্রীড়া সংগঠক ইব্রাহীম চেঙ্গীসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র বিভা হাসান ও প্যানেল মেয়র-৩ মিনুয়ারা বেগম প্রমুখ।
আইভী বলেন, শহর পরিষ্কার রাখার জন্য ১৫ দিন পরপর নগরীর বিভিন্ন স্থানের পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়। শনিবার আমার কর্মীরা চাষাড়ায় পোস্টার-ব্যানার সরাতে গেলে হোন্ডা বাহিনী হামলা চালায়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এরপর আমার একজন কর্মীর গায়ে হাত দিলে অবস্থা খারাপ হবে, বলে দিলাম।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার দেওয়া জায়গায় ওসমানী স্টেডিয়াম করা হয়েছে। কিন্তু ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সভাপতি পেছনের কম দামি জায়গার বদলে ক্রীড়া সংস্থার ৫০-৬০ লাখ টাকা শতাংশের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে এক ব্যক্তিকে। কী কারণে কার নির্দেশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো জানি না। আরও মজার ঘটনা হলো, তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসের জন্য সিটি করপোরেশনের ৭৫ শতাংশ জায়গা দিয়েছিলেন আমার বাবা আলী আহমদ চুনকা। কিন্তু সেখান থেকে ৩০-৩৫ শতাংশ জায়গা ওসমানী স্টেডিয়ামের পাশের মাঠ দখলে নিয়েছে। সিটি করপোরেশন জায়গা দিয়েছিলো ওসমানী স্টেডিয়ামকে অথচ স্টেডিয়ামের নাম-ই পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। কার জায়গা, কে দখলে নেয়, কীভাবে এসব হয়? সব ভৌতিক কর্মকাণ্ড নারায়ণগঞ্জে হয়। যেগুলো বলা যায় না, সহ্যও করা যায় না।
মেয়র আইভী বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবো। আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসবো। কে সিটি করপোরেশনে প্রতিনিধিত্ব করবে, এর দায়িত্ব শহরবাসীর। আমার ভোট চাওয়ার চাইবো; ভোট দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।