নারায়ণগঞ্জে লকডাউনে বিধিনিষেধ অমান্য করায় গত দুই দিনে ১৫৪টি মামলা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এক লাখ ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৩ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ এ তথ্য জানান।
সরেজমিন দেখা যায়, কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে নারায়ণগঞ্জ নগরী একেবারে ফাঁকা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াসহ অন্যান্য চেকপোস্টগুলোতে সকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়।
পণ্যবাহী ও জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলো ছাড়া লকডাউনের আওতায় নিষিদ্ধ কোনও ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ বাইরে বের হলেও চেকপোস্টগুলোতে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। বের হওয়ার যথাযথ কারণ জানাতে ব্যর্থ হলে শাস্তিও পেতে হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনও যাবাহন চলাচল করছে না। হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ মিলে মহাসড়কে আট থেকে দশটি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে। বিশেষ কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই মামলা অথবা জরিমানার গুনতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি তিন প্লাটুন সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়ানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনসহ টহল অব্যাহত রেখেছে। চেকপোস্টে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছে রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে ২২টি চেকপোস্ট ও ৩০টি মোবাইল টিম একযোগে কাজ করছে। কারণ ছাড়া রাস্তায় বের হলেই শাস্তি বা জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, লকডাউন বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খখলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে কাজ করছে। বিনা কারণে বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই মামলাসহ জরিমানা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত দুই দিনে নারায়ণগঞ্জে ১৫৪টি মামলা এবং এক লাখ ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে চাই না। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।