বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকা-গাজীপুর সড়কের লক্ষ্মীপুরা এলাকা অবরোধ করেছেন স্টাইল ক্র্যাফ্ট পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এর আগেও তারা একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) একই স্থানে দুই ঘণ্টা অবরোধের পর রাত ৮টা পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করেন শ্রমিকরা। পরে ব্যর্থ হয়ে রাতে ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকাল ৮টায় কারখানায় এসে কাজে যোগদান না করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধ করেন। এতে দুই দিকে যানবাহন আটকে পড়ে যানজট তৈরি হয়। এসবের মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যাই বেশি।
কারখানার সুইং শাখার চামেলী ও খাদিজাসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, নতুন কোনো তারিখ বা প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন নেই। আমাদের বেতন-ভাতা দিতে হবে।
স্টাইল ক্র্যাফ্ট পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তাদের চলতি বছরের মার্চ, মে, জুন এবং ২০২০ সালের মার্চ ও আগস্ট মাসের শতকরা ৫০ ভাগ, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর, অক্টোবর মাসের ৩৫ ভাগ, নভেম্বর মাসের ১৫ ভাগ বেতন পাওনা রয়েছে।
এছাড়া কারখানার কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধিসহ তাদের চার বছরের বাৎসরিক ছুটি ও দুই বছরের ঈদ বোনাসের টাকা পাওনা রয়েছে। তারা বেশকিছু দিন ধরে এসব পাওনাদি পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনাদি পরিশোধের একাধিকবার তারিখ ঘোষণা করলেও পরিশোধ করেনি।
সর্বশেষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা গত মার্চ মাসের বকেয়া বেতন ৭ জুলাই এবং মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন ১৫ জুলাই এবং ঈদের বোনাস ১৮ জুলাই পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে তারিখ নির্ধারণ করে ঘোষণা দেয়। কিন্তু মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৭ জুলাই কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ না করে তিন মাসের বকেয়া পাওনা একত্রে ১৫ জুলাই পরিশোধের ঘোষণা দেয়। এতে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। গত ঈদুল ফিতরের সময়ও আন্দোলন করে তাদের বেতন-বোনাস নিতে হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, বুধবার বেতন-ভাতার দাবিতে সকাল ১০টা থেকে সড়ক অবরোধ করে। শ্রমিকদের পাওনা টাকা দিতে হবে। এছাড়া আলোচনার কোনও সুযোগ নেই। অনেকবার মালিকপক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। শ্রমিকদের টাকা দেওয়া ছাড়া বোঝানোর আর কোনও পথ নেই। তাছাড়া শ্রমিকেরা রাত পর্যন্ত কারখানা মালিকের জন্য অপেক্ষা করে না পেয়ে ফিরে গেছেন। বুধবার সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে। এখনও মালিকপক্ষের কেউ শ্রমিকদের সাথে কথা বলতে আসেননি।
কারখানার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক জানান, শ্রমিকদের রোজার ঈদের আগে এপ্রিল মাসের ১৯ দিনের বেতন এবং ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে। এখন শুধু এপ্রিলের ১১ দিন এবং মে-জুন মাসের বেতন পাবেন তারা। গত ১০ জুলাই শ্রমিকদের নিয়ে কারখানার এমডি ভার্চুয়ালি মিটিং করেছেন। মিটিংয়ে করোনাকালীন বন্ধের প্রথম ৪৫ দিনের ৫০ শতাংশ এবং পরের দিনগুলোর ২৫ শতাংশ বেতন দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু শ্রমিকরা সিদ্ধান্তটি না মেনে বিক্ষোভ করছে। বিষয়টি নিয়ে কল-কারখানা অধিদফতর এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।