জরিমানা ও ব্যবস্থাপকের কারাদণ্ডে যা বললো প্রিমিয়ার সিমেন্ট

মুন্সীগঞ্জে প্রিমিয়ার সিমেন্টের কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটির বিপণন ও জনসংযোগ বিভাগ। একই সঙ্গে কারখানা খোলা রাখায় প্রিমিয়ার সিমেন্টকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের করা ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ব্যবস্থাপকের কারাদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের বিপণন ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ফেরদৌস আমিন।

তিনি বলেন, ‘সিমেন্ট ভারী শিল্প এবং জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। নিরবচ্ছিন্ন সিমেন্ট সরবরাহ অব্যাহত রাখায় কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। তাই নির্দিষ্ট কিছু সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ দিনের লকডাউন থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলছিল কারখানায়। এ সময়ে অসাবধানতাবশত একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকারি বিধিনিষেধ মানার কারণে ওই দিন কারখানায় কোনও কর্মী উৎপাদন কাজে নিয়োজিত ছিল না।’

ফেরদৌস আমিন বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঘটনার পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে এসে সঠিক কারণ নিরূপণে ঘাটতি থাকায় জরিমানার পাশাপাশি প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপককে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনার সুযোগ এখনও ফুরিয়ে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সিমেন্ট কারখানার ভেতরে আবাসন ব্যবস্থা আছে। সবসময় হাজারখানেক লোক থাকেন। ঈদের দিন ও পরদিন এখানে ঈদ উদযাপনের ব্যবস্থা ছিল। গত বছর প্রথম লকডাউনের সময় কারখানায় প্রায় দুই হাজার লোকের তিন বেলা খাওয়ার ও থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম আমরা। কাজেই করোনা পরিস্থিতিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের করা জরিমানা ও ব্যবস্থাপকের কারাদণ্ড মওকুফের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’

প্রসঙ্গত, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারখানা খোলা রাখার দায়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নজরুল ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হামিদুর রহমান এ জরিমানা ও কারাদণ্ড দেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানায় কর্মরত শাহাবুল (৩৮) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেলে বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানায় অভিযান চালান।