হেফাজত নেতা মুফতি আজহারুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে নাশকতা চালানো ঘটনায় সংগঠনটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

বুধবার (১৮ আগস্ট) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। সাংবাদিকদের তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজহারুল ইসলাম দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, গত ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা ২৮ আসামিসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচশ’ বিএনপি, জামায়াত-শিবির, হেফাজতকর্মী এবং আরও অনেকে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডের চৌরঙ্গী পেট্রোল পাম্প থেকে মৌচাক পর্যন্ত  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হরতাল ও অবরোধের নামে তারা এসব কর্মকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা  দায়ের করা হয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পিবিআইয়ের কাছে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তদন্তভার পেয়েই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মহাসড়কে তাণ্ডব চালানোর হোতা মুফতি আজহারুল ইসলামকে (৩৫) পিবিআই গত ১৬ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি প্রদান করতে রাজি হন। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে হাজির করলে তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। মুফতি আজহারুল ইসলামের বাড়ি  কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাটখোলা  গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মালেক মাস্টার।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও জানান, গত মঙ্গলবার জবানবন্দি প্রদান করতে করতে রাত হয়ে যায়। এ কারণে আদালত থেকে জবানবন্দির কাগজ হাতে পেতে দেরি হয়েছে। মুফতি আজহারুল ইসলাম আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের কাছে দিয়েছেন। তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই মামলায় এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির মুফতি বশির উল্লাহসহ আরও দুই জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।