দাওয়াত খেতে বেরিয়ে ৭ দিনেও ফেরেননি লিলি বেগম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির সহ-সভাপতি লিলি বেগমের (৩৮) খোঁজ মিলছে না। গত সাত দিন ধরে তিনি নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন সমিতির কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান মঞ্জু। ঘটনার পর থেকে এনজিওটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিখোঁজের স্বজনরা নানান শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় লিলি বেগমের ভাগিনা শফি ইসলাম গোয়ালন্দ ঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের দাবি করেছে মুক্তি মহিলা সমিতি। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তারা। 

মুক্তি মহিলা সমিতির কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান মঞ্জু জানান, সংগঠনটি ১৯৯৯ সাল থেকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লি ও এর আশপাশের এলাকার নারী এবং মেয়ে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে আসছে। নিখোঁজ লিলি বেগম সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১০ নভেম্বর দুপুরে পার্শ্ববর্তী আ. লতিফের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

নিখোঁজ লিলি বেগমের ভাগিনা শফি ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পূর্ব আমখাওয়া গ্রামে। তার খালা লিলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। স্থানীয় আ. লতিফ নামের এক ব্যক্তিকে তার খালা বিয়ে করেন। তবে সে বিয়ে আ. লতিফের পরিবার মেনে নেয়নি। 

তিনি আরও জানান, খালা লিলি বেগমের সঙ্গে তার ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। গত ১০ নভেম্বর তার খালার নম্বরে কল দিলে তিনি ফোনটি বন্ধ পান। এর একদিন পর তিনি তার খালার খোঁজ করতে দৌলতদিয়ায় আসেন। এ সময় তার খালার বাড়ির ভাড়াটিয়ারা জানান, তার খালা আগের দিন আ. লতিফের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর ফেরেননি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, নিখোঁজ লিলি বেগমের সন্ধানে ইতোমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। মোবাইলফোনের কল লিস্টসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার সন্ধান চলছে। ঘটনায় যাদের নাম আসছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় ইতোমধ্যে নিখোঁজের ছবিসহ বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।