পঞ্চমধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর জোরোশোরে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। তবে প্রতিটি ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় অস্বস্তিতে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এরই মধ্যে ১৫ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৫ জন বিদ্রোহী রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ২৫ নয়। বিদ্রোহীর সংখ্যা ১৫ জন। তাদের মঙ্গলবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী থাকায় নির্বাচনী মাঠে অস্বস্থিতে পড়ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। অনেক ইউনিয়নে বিদ্রোহীরা প্রচার-প্রচারণাতেও এগিয়ে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬১ জন প্রার্থীর মধ্যে মজলিশপুর ইউনিয়নে পাঁচ জন, বুধল ইউনিয়নে আট জন, সুহিলপুর ইউনিয়নে ছয় জন, নাটাই উত্তর ইউনিয়নে ৯ জন, তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে আট জন, বাসুদেব ইউনিয়নে ছয় জন, সাদেকপুর ইউনিয়নে ছয় জন, রামরাইল ইউনিয়নে চার জন, মাছিহাতা ইউনিয়নে তিন জন ও সুলতানপুর ইউনিয়নে ছয় জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদের মধ্যে দল থেকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ১৫ বিদ্রোহীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন, মজলিশপুর ইউনিয়নের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম, বুধল ইউনিয়নের প্রার্থী মো. আবদুল হামিদ ও মনিরুজ্জামান, নাটাই উত্তর ইউনিয়নের মো. হালিম শাহ লাল মিয়া, কাজী মো. মোবারক হোসেন ও আমির হোসেন, তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের এনামুল হক ওসমান ও আল-আমিন, বাসুদেব ইউনিয়নের নেছার উদ্দিন শেরশাহ ও আবদুল হাকিম মোল্লা, সাদেকপুর ইউনিয়নের সাইদুজ্জামান মাষ্টার, রামরাইল ইউনিয়নের মশিউর রহমান সেলিম ও শাহীন ভূইয়া বাবু, সুলতানপুর ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ মহসিন ও সুধীর চন্দ্র ঘোষ।
জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত দলীয় বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারার (১১) উপধারা মোতাবেক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিদ্রোহী থাকায় কিছু কিছু জায়গায় আমাদের অস্বস্তি আছে। তাদের মঙ্গলবার দল থেকে দ্রুত বহিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করায় যতটুকু অস্বস্তিতে আছে তা কেটে যাবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। তিনি বলেন, ২৫ জন বিদ্রোহী কথাটা সঠিক নয়, দলের পদধারী ১৫ জন বিদ্রোহী আছে।