রাজবাড়ী জেলার পাংশায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মো. রিপন আলী খান (৩০) নামে এক ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী এ হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
মো. রিপন আলী খান পূর্ব বাগদুলি গ্রামের মো. রতন আলী খানের ছেলে। তার ১১ মাস বয়সের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুইদিন আগে রাত ১০ টার দিকে মো. রিপন আলী খানের ছোট ভাই মো. শিবলু খান এলাকার এক বাসিন্দা মো. আক্কাস মন্ডল (৬৫) কে একটি চিঠি দিয়ে যান। মো. রিপন আলী খান ওই চিঠিতে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘আমি যদি নির্বাচনে জয়ী হতে না পারি তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো। আর আমার এই মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন আমি যাদের নাম উল্লেখ করেছি তারা। আমি মো. রিপন আলী খান ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক পাখা নিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছি। আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত না করেন তাহলে ৬ জানুয়ারি আমি আত্মহত্যা করবো। মৃত্যুর পর আমার বউ-বাচ্চার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। আমি একটি মহিষ কিনে রেখে যাবো। সেই মহিষ আমার কুলখানির কাজে ব্যবহৃত হবে। আর আমি যদি জয়ী হই তাহলে সেই মহিষ জবাই করে এলাকাবাসীকে খাওয়াবো।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে কাফনের কাপড়ও কিনে রেখেছিলেন। পরে এলাকাবাসীর তোপের মুখে সেই কাফনের কাপড় পুড়িয়ে ফেলেন।
তবে মেম্বার পদপ্রার্থী মো. রিপন আলি খানের ভাই মো. শিবলু খান বলেন, ‘আমি কাউকে চিঠি দেইনি। আমার ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এগুলো করে আমার ওপর দায় চাপিয়েছে। আমি এর কিছুই জানি না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে মেম্বার প্রার্থী মো. রিপন আলি খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। আমি এ কাজ করিনি। কে বা কারা করেছে, আমি তাও জানি না। তবে আমি থানায় গিয়েছিলাম আইনের আশ্রয় নিতে। থানা থেকে আমাকে বলেছে যে, ফেসবুকে বিষয়টি পোস্ট করা হয়েছে। সেই ফেসবুকের লিংক নিয়ে এলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবো।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে কেউ এমনটা করে থাকলে সেটা আইনের বাইরে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে অবশ্যই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’